বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১৫ জুলাই ২০২৫, ১২:০৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

স্মার্টফোনেই ধ্বংস হচ্ছে মন! মানসিক রোগে ভুগছে তরুণরা

আজকের দিনে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যোগাযোগ হোক বা বিনোদন, কেনাকাটা হোক কিংবা ব্যাংকিং—সব কিছুতেই মোবাইল নির্ভরতা বেড়েই চলেছে। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট যুক্ত হওয়ার পর থেকে এই নির্ভরতা আরো জোরদার হয়েছে। তবে এর সঠিক ব্যবহার যেমন আমাদের জীবন সহজ করে তুলেছে, তেমনি অতিরিক্ত ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা—এর মধ্যে অন্যতম হলো নোমোফোবিয়া।

 

নোমোফোবিয়া কী?
নোমোফোবিয়া শব্দটি এসেছে ‘নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া’ থেকে। অর্থাৎ, মোবাইল ফোন না থাকলে বা ব্যবহার করতে না পারলে যে ভয় বা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়, সেটিই এই সমস্যার মূল লক্ষণ। ফোন হারিয়ে যাওয়া, চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া বা নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যারা আতঙ্কিত বোধ করেন, তারা নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।

 

নোমোফোবিয়ার লক্ষণ কী কী?
এই সমস্যার দুটি প্রধান লক্ষণ রয়েছে—মানসিক ও শারীরিক। মানসিক লক্ষণ:
মোবাইল হাতছাড়া হলে ভীষণ দুশ্চিন্তা বা আতঙ্ক, ফোন চোখের আড়াল হলেই অস্থিরতা, কিছুক্ষণ ফোন না ব্যবহার করলেই হতাশা, মুড খারাপ হয়ে যাওয়া।

 

শারীরিক লক্ষণ:
কাঁপুনি, ঘাম, শ্বাসকষ্ট, কোনো কারণ ছাড়াই মাথাব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপে শরীর ভেঙে পড়া।

কেন হয় এই সমস্যা?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোবাইলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকেই এই আসক্তির জন্ম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেম, বিনোদন—সবকিছু হাতের মুঠোয় পাওয়ার ফলে মোবাইলকে বাদ দিয়ে জীবন কল্পনাই করা কঠিন হয়ে গেছে। মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন এই আসক্তি আরো বাড়িয়ে তোলে।

 

পরিসংখ্যান কী বলছে?
বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০০ কোটির বেশি। আমেরিকার ৬৬% মোবাইল ব্যবহারকারী স্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে নোমোফোবিয়ার লক্ষণ রয়েছে। ৫০% মানুষ মোবাইল বাসায় রেখে গেলে অস্বস্তি অনুভব করেন। ৬৯% ব্যবহারকারী ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মোবাইল চেক করেন।

 

এই সমস্যা কি রোগ?
বর্তমানে নোমোফোবিয়া এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো মানসিক রোগ নয়। তবে উপসর্গগুলো যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় (ছয় মাসের বেশি), তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ২০১৫ সালে আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী এই ফোবিয়ার লক্ষণ চিহ্নিত করতে একটি প্রশ্নমালা তৈরি করেন, যা শত শত শিক্ষার্থীর উপর প্রয়োগ করে ইতিবাচক ফলও পেয়েছিলেন।

 

নোমোফোবিয়া থেকে দূরে থাকার উপায়
রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার না করা, দিনে কিছু সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ফোন থেকে দূরে থাকা, প্রয়োজন না হলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানো, বাইরে বের হলে মাঝে মাঝে ফোন বাসায় রেখে যাওয়া।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য তৈরি হয়েছে, তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সমস্যা নেই। তবে তার আসক্তিতে হারিয়ে গেলে সমস্যা শুরু হয়। মোবাইলের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েও, তার সীমারেখা তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।

 

সূত্র : রোর বাংলা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

চা শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি

শুধু সন্তান জন্মের জন্য বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কত মানুষ

চাকরি হারালেই ৬০ দিন সময় নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাধারীদের জন্য নতুন পরিবর্তনের প্রস্তাব

চুল গজাতে পেয়ারা পাতা—আসলেই কি কাজ করে?

মার্কিন নাগরিকত্ব নীতিতে আবারও ট্রাম্পের কড়াকড়ি, মানলেন না আদালতের রায়

৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক

হ্যাকিং বিতর্কে মেটার এআই, বাড়ছে সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কা

ইসরাইল ইস্যুতে অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ায় কি প্রভাব পড়বে

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের রকেট

১০

আনন্দঘরে বিপুল আনন্দ

১১

‘জুলাইকার’ এই বিতর্কের জন্য আদালত থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া না হলে সেটা জাতির জন্য লজ্জার হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

১৩

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী আবদুল আল-সাইয়েদ, ব্যর্থ কোটি কোটি ডলারের প্রচারণা

১৪

মিশিগানে দক্ষিণ সুরমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত

১৫

বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস, ৫ অঞ্চলে মিশন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

১৬

মিশিগানে ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির বনভোজনে প্রাণের উচ্ছ্বাস

১৭

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারিতে আল-সাইয়েদকে হারাতে কেন এত মরিয়া ইসারায়েলি লবি এআইপ্যাক

১৮

মুনা দাওয়াহ কনফারেন্স ২০২৬ সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং

১৯

শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন সাকিব আল হাসান

২০