যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস| এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)|
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে এই চুক্তি হয়| বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি চুক্তিতে সই করেন|
১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১০টি ওয়াইড-বডির ‘৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ এবং ৪টি ন্যারো-বডির ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ মডেলের উড়োজাহাজ| চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ শুরু হতে পারে| এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে|
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এসব নতুন উড়োজাহাজ বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে| তিনি বলেন, এ চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ˆবশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে| পাশাপাশি পর্যটন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ জনবল ˆতরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে|
অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে| নতুন এই উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে| এসব উড়োজাহাজ প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীসেবায় উন্নত সুবিধা দেবে|
গত জুলাইয়ে (২০২৫) অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মাহবুবুর রহমান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে ক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা জানান| তবে তখনো যার জন্য কেনা হবে এসব উড়োজাহাজ, সেই ‘বিমান কর্তৃপক্ষ’ কিছুই জানে না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল| এরপর গত ৩০ ডিসে¤^র বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং কেনার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত হয়| বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল|
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেইন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন|
মন্তব্য করুন