বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শাবান মাসে রোজা রাখার ফজিলত

মুসলিম উম্মাহর মাঝে চলছে সাজসাজ রব, কারণ আর কিছুদিন পরেই রমজান মাস। রমজান মুসলমানদের জন্য এক মহা মূল্যবান মাস। রমজান মাস যেমন ফজিলতপূর্ণ, ঠিক তেমনি রমজানের আগের মাস, অর্থাৎ শাবান মাসও অনেক গুরত্বপূর্ণ। শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখার বিষয়ে রয়েছে একাধিক সহিহ হাদিস ও আলেমদের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। একজন মুসলমানের মাঝেমধ্যেই নফল রোজা রাখা উচিত। এতে দুনিয়ামুখী আসক্তি কমে, মনোবল দৃঢ় হয় এবং আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

 

শাবান মাসে রোজার ফজিলত সম্পর্কে একাধিক সহিহ হাদিস রয়েছে। সহিহ মুসলিমে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কখনো রমজান ছাড়া পুরো এক মাস রোজা রাখতে দেখিনি। আর শা‘বান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে তাকে এতো বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।

 

আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অল্প কয়েক দিন ছাড়া প্রায় পুরো মাস রোজা রাখতেন। এ হাদিসদ্বয় বলছে, রোজা রাখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শাবান মাস সর্বাধিক প্রিয় ছিল, তাই তিনি রমজান মাস ব্যতীত এ মাসেই সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন। কিন্তু কেন তিনি শাবান মাসে এত বেশি রোজা রাখতেন?

 

 

এর উত্তর পাওয়া যাবে হযরত উসামা বিন যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে। ওই হাদিস থেকে শাবান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আর তা হলো উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমজান ছাড়া) শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন অন্য কোনো মাসেই এত রোজা রাখতেন না।

 

উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন, আমি (একবার) বললাম আমি আপনাকে কোনো মাসেই এত রোজা রাখতে দেখিনি, শাবান মাসে আপনি যত রাখেন, (এর রহস্য কি)?
এ প্রশ্নের উত্তরে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- শাবান হল রজব ও রমযানের দ্বিতীয় মাস। এ মাস সম্পর্কে (অর্থাৎ এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে) মানুষ গাফেল থাকে। শাবান হল এমন মাস, যে মাসে রব্বুল আলামিনের কাছে (বান্দার) আমল পেশ করা হয়। আমি চাই, রোজাদার অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর দরবারে) পেশ হোক।

 

 

সুতরাং একাধিক ফযিলতের কারণে যেভাবে রমজান মাসকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়, তেমনি সারা বছরের আমলনামা পেশ হওয়ার মাস হিসেবে শাবান মাসকেও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা কর্তব্য। আর এই গুরুত্ব প্রদান করার উপায় হল, সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া। শাবান মাসের অধিকাংশ দিন রোজা রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে এই নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন সংসদের জন্য ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের উদ্যোগে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত

ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করল স্পেন

ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে না ইরান

ওয়াশিংটনে টাইটানিক ধাঁচে ট্রাম্প–এপস্টেইন ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পরিবারের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষ জাতি গঠন সরকারের অগ্রাধিকার

রাজনীতি এখন সস্তা তামাশায় পরিণত হয়েছে ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিওর জবাবে ওবামা

ইতিহাসের সর্বোচ্চ করদাতা হওয়ার পথে মাস্ক জীবদ্দশায় দেবেন ৫০০ বিলিয়ন ডলার

এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে বেড়েছে পরিযায়ী ও জলচর পাখির সংখ্যা

১০

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন ডায়ানা মোরেনো বিজয়ী

১১

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

১২

১৩

ওয়াশিংটন ডিসি দূতাবাসে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

১৪

নিউইয়র্কের চার এলাকায় চালু হচ্ছে শিশুদের ফ্রি চাইল্ড কেয়ার

১৫

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বাণিজ্য চুক্তি

১৬

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সহায়তা নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু

১৭

ইরানে যুদ্ধে অনীহা, আপত্তি জানাচ্ছেন অনেক মার্কিন সেনা

১৮

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব: দেশে ডলারের দাম বেড়েছে

১৯

একুশে পদক পেলেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড দল

২০