স্বাস্থ্য

লেবু-মধু পানি পানের উপকারিতা

লেবু-মধু পানি পানের উপকারিতা
ম থেকে উঠে খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। এই পানীয়টি স্বাস্থ্যের জন্য সুফল বয়ে আনে বিভিন্নভাবে।

সকালে চা বা কফি পানে যেটুকু শক্তি পাওয়া যায়, তার চেয়ে বেশি শক্তি পাওয়া যায় লেবু-মধু-পানি পানে। লেবুর রসের খনিজ ও ভিটামিন খাবার ভালোভাবে হজমে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে লেবু ও মধু মেশানো কুসুম গরম পানি পান পেট ফুলে থাকা, বুকে ব্যথা ও পাকস্থলীতে জমে থাকা টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করে।
লেবু পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস, যা হৃৎস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

সকালে এই পানি পানের কিছুক্ষণ পর দাঁত ব্রাশ করুন। এতে মুখের ভেতরের জীবাণু ও নিশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হবে।
লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনির পাথর অপসারণে সহায়তা করে।
লেবুপানি পান করলে ওজন কমে।
লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা, ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি কমায় এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করে। পাশাপাশি টক্সিন দূর করে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

লেবুর ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সবচেয়ে ভালো উৎস। যে কোনও ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি লেবুতে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কিছুটা ক্যালসিয়ামও রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে বুস্ট করে। যেটি আমাদের ভেজাল খাবার, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে যে সব ডিজিজ হয়, যেমন হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস; এসব রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। লেবুর পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

হঠাৎ সর্দি-কাশি হলেও আমরা ওষুধের বিকল্প হিসেবে লেবুর রস খেতে পারি। অথবা যাঁদের কোল্ড অ্যালার্জি বা অ্যাজমা রয়েছে, তাঁরাও লেবুর রসের ডেটক্স ওয়াটার গ্রহণ করতে পারেন। লেবুতে ক্যালোরি ভ্যালু খুবই কম, তাই যে কেউ একটি লেবু প্রতিদিন অনায়াসে গ্রহণ করতে পারেন।

লেবুর যে দিকটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এর ভিটামিন সি শরীরের আয়রন শোষণে সহায়তা করে। অর্থাৎ যখনই আপনি আয়রনজনিত জটিলতায় ভুগে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করবেন, যেমন মাছ-মাংস অথবা সবুজ শাক, তখন এর পাশাপাশি একটি লেবু বা সাইট্রাস ফ্রুটস গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত লেবু বা সাইট্রাস ফ্রুট গ্রহণ না করলে যেসব রোগ হয়, তার মধ্যে স্কার্ভি, স্কিন প্রবলেম, মাড়ি থেকে রক্তপাত, আয়রনজনিত সমস্যা ইত্যাদি। এ ছাড়া যাঁরা নিয়মিত লেবু বা সাইট্রাস ফ্রুট গ্রহণ করেন না, তাঁরা রক্তস্বল্পতায়ও ভুগতে পারেন।

হাই-অ্যাসিডিক হওয়ার কারণে যাঁদের হার্ট বার্ন, মাউথ আলসার অথবা স্টোমাক আলসার আছে, তাঁরা লেবুর রস গ্রহণে সতর্ক হবেন। যাঁরা দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছেন বা ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি, তাঁদের লেবু গ্রহণে সতর্ক হতে হবে। প্রতিদিন একটি লেবু অথবা ৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি আপনার শরীরে দরকার। স্বাভাবিক একজন মানুষের দিনে একটি লেবুই যথেষ্ট। আপনার ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে দেবে।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি একগ্লাস কুসুম গরম পানি অর্ধেকটা পাতিলেবুর রস সামান্য মধু অথবা চিনি দিয়ে মিশিয়ে খান তাহলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। শরীরের চামড়ায় ফুটে উঠবে আভা। চোখ-মুখে বিবর্ণতা মুছে গিয়ে ত্বকের উজ্জলতা বাড়বে বহুগুণ। আপনার চামড়া যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে দিনের মধ্যে কয়েকবার লেবুর রস পান করুন। চামড়ার তেলতেলে ভাব কয়েকদিন পরই কমে আসবে। মুখের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এক টুকরো লেবুর রসের সাথে দু’চামচ দুধ মিশিয়ে তুলার সাহয্যে মুখে প্রলেপ লাগাবেন। পনোরো-বিশ মিনিট এই প্রলেপ রাখার পর ধুয়ে ফেলবেন।

যাদের মুখে ব্রণ আছে তারা দুধ বাদ দিয়ে শুধু লেবুর রসই লাগাবেন। মনে রাখবেন মুখের ব্রণ এবং ব্রণের দাগ সরানোর জন্য লেবুর রস ত্বকে রাখা একান্তভাবেই দরকার। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের প্রকোপ বিশে দেখা যায়। লেবু কিংবা গাজরের রস অল্প একটু চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে এর হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়। শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের কমনীয়তা আনার জন্য লেবুর রস, গোলাপজল ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে ঘাড়, গলা ও দেহের অন্যান্য অংশে মাখুন।

পনেরো-বিশ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ডিমের সাদা অংশের সাথে অর্ধেকটা লেবুর রসও কুসুম গরম পানির পেস্টের মতো করে মিশিয়ে নিন। এই প্রলেপটি আস্তে আস্তে মাখুন। শুকিয়ে যাবার পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। তেলতেলে ত্বকের পক্ষে এটি ভীষণ উপকারী। লেবুর রস ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। ব্যস, হয়ে গেল অ্যান্ট্রিনজেন্ট লোশন তৈরি।

এটি ত্বকে লাগিয়ে দেখুন। কয়েক দিনের মধ্যেই ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে যাবে। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ১ চামচ দুধের সরের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ধীরে ধীরে ত্বকে মালিশ করে নিন। সকালে উঠেই তা ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উপরের দাগগুলো উঠে যাবে। দেহ ত্বকের কোমল এবং দাগমুক্ত রাখার জন্য লেবু একটি চমৎকার উপাদান।

ত্বকে অনেক সময় কালো দাগ দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে একটি ছোটো শসার সাথে একটি পাতিলেবুর রস ১ চামচ ব্রান্ডি ও ১ চামচ ডিমের সাদা অংশ, দু’চামচ গোলাপজল মিশিয়ে ত্বকে ধীরে ধীরে মালিশ করবেন। কালো দাগ তো দূর হবেই, সেই সাথে ত্বক হবে আকর্ষণীয়, কোমল ও উজ্জ্বল। হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি এসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে।

এ নিয়ে অনেকেরই দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। আধা টুকরো লেবু নিয়ে এই জায়গাগুলোতে ভালো করে ঘষে নিলে ময়লা উঠে গিয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে। পায়ের রুক্ষভাব দূর করতে লেবুর রসের সাথে অল্প মিহি চিনি মিশিয়ে মালিশ করে নেবেন। দশ মিনিট পর হাত ধুয়ে নিন কুসুম গরম পানিতে। দেখবেন হাত-পা কেমন পেলব কোমল মসৃণ হয়ে উঠেছে।

তৈরির নিয়ম
একটি গ্লাসে একটি মাঝারি আকারের লেবু রস করে নিন। এবার কুসুম গরম পানি দিয়ে গ্লাসটি পূর্ণ করুন। সবশেষে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে নেড়েচেড়ে পান করুন।

আরও পড়ুনঃ বিশ্ব এইডস দিবস

Back to top button