যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু পরবর্তী সৎকার বা ফিউনারেলের ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় তা অনেক পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সাধারণ দাফন থেকে শুরু করে কফিন, কবরস্থান, ফিউনারেল হোমের ফি, পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক খরচ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক পরিবার তাদের সঞ্চয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঞ্চলে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এ চাপ আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
ন্যাশনাল ফিউনারেল ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কফিনসহ পূর্ণাঙ্গ দাফন ও সৎকারের জাতীয় গড় ব্যয় বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ ডলার। ভল্ট যুক্ত হলে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৯৯৫ ডলার। অন্যদিকে দাহ করার ক্ষেত্রেও গড় ব্যয় প্রায় ৬ হাজার ২৮০ ডলার। সংস্থাটির হিসাব বলছে, প্রতি বছর এই খরচ গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে একটি সাধারণ সৎকারের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার ৫৯৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আঞ্চলিকভাবে ব্যয়ের পার্থক্য আরও প্রকট। নর্থইস্ট অঞ্চল, বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফিউনারেল ব্যয় জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। দক্ষিণাঞ্চলে যেখানে ব্যয় শুরু হয় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ ডলার থেকে, সেখানে নর্থইস্ট অঞ্চলে তা প্রায় ৮ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একটি পূর্ণাঙ্গ ফিউনারেল প্যাকেজে সাধারণত অনুষ্ঠানের কক্ষ ভাড়া, কফিন, কবরস্থান, ভল্ট, সমাধিফলক ও গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মধ্যে কফিনই সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ, যার মূল্য ৯০০ ডলার থেকে শুরু করে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
দাহ করার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সেটিও সাধারণ মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি দাহ করার গড় ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২০২ ডলার। কিছু এলাকায় এ খরচ ৯৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া গেলেও কয়েকটি রাজ্যে তা ৩ হাজার ডলার অতিক্রম করেছে। সরকারি সহায়তা সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মৃত্যুর পর মাত্র ২৫৫ ডলার সহায়তা প্রদান করে, যা শেষকৃত্যের মোট ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
নিউইয়র্কে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। শহরটিতে কয়েক লাখ মুসলিম বসবাস করলেও পৃথক মুসলিম কবরস্থানের অভাবে অনেক পরিবারকে বেসরকারি কবরস্থানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি শেষকৃত্যের খরচ ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন, গুসল, কাফন ও জানাজা সম্পন্ন করতে হয়। ফলে পরিবারগুলো বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে দেখার পর্যাপ্ত সময় পায় না, যা আর্থিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
তবে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি এলাকায় কিছু মুসলিম ফিউনারেল সার্ভিস তুলনামূলক কম খরচে সেবা প্রদান করছে। নিউজার্সির কয়েকটি ইসলামিক সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলারে মৌলিক সেবা পাওয়া যায়, যদিও এতে কবরের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে না। এছাড়া মুসলিম ফ্রি ব্যুরিয়াল অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দাতব্য সহায়তার ভিত্তিতে বিনামূল্যে দাফনের ব্যবস্থাও করে থাকে। তবে এসব উদ্যোগ সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ পরিবারকেই উচ্চ ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
মন্তব্য করুন