বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অধিকার সীমিত করতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারণে শুনানি শুরু করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপের বিষয়ে প্রশাসনের আইনি যুক্তি শোনেন আদালত।

 

এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মিটারিং’ (সবঃবৎরহম) নামক একটি বিতর্কিত নীতি। এই নীতির মাধ্যমে মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তারা সীমান্তে ভিড় বেশি হলে অভিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে পারেন এবং তাদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখতে পারেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে এই নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছিল, যা পরে বাইডেন প্রশাসন বাতিল করে দেয়। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় এই নীতি কার্যকর করতে আগ্রহী।

 

মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী যদি যুক্তরাষ্ট্রে ‘পৌঁছান’ (ধৎৎরাবং রহ ঃযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং), তবে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করার এবং সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক পরীক্ষার (রহংঢ়বপঃরড়হ) সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। আইনি লড়াইয়ের মূল বিন্দু হলো—যেসব অভিবাসীকে মেক্সিকো সীমান্তের ওপারে আটকে দেওয়া হচ্ছে, তারা কি আইনত যুক্তরাষ্ট্রে ‘পৌঁছেছেন’ বলে গণ্য হবেন?

 

প্রশাসনের পক্ষে সরকারি আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ‘পৌঁছানো’ বলতে শারীরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশ করাকে বোঝায়। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং নিম্ন আদালত আগে রায় দিয়েছিল যে, সীমান্তের চেকপোস্টে উপস্থিত হওয়া মানেই তিনি প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত। যদি সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তবে সীমান্ত কর্মকর্তারা আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যেকোনো সময় অভিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে পারবেন। এর ফলে সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ার এবং মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

 

বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেয়র শুনানির সময় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে যারা প্রকৃত শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য, তাদের অধিকার খর্ব হতে পারে।
আগামী জুনের শেষ নাগাদ এই মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু এই মামলা নয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (নরৎঃযৎরমযঃ পরঃরুবহংযরঢ়) বাতিল এবং হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা কবজ তুলে নেওয়ার মতো আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আশ্রয় প্রদান নীতির আমূল পরিবর্তন ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা ।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাকার উদ্যোগে আলাপন ও নৈশভোজ; চার বিশিষ্ট সমাজকর্মীকে সংবর্ধনা

মিশিগানে বড়লেখা ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের বনভোজন সম্পন্ন

স্টুডেন্ট লোনে নতুন অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য কী বদলাচ্ছে

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি: অস্থায়ী সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে শুরু ‘দ্য গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’

সন্ধা নামে : ছন্দা বিনতে সুলতান

চিঠি লিখি, ডাকবাক্সে হয় না ঢালা : আনোয়ার ইকবাল কচি

বসুধা : অনামিকা নেওয়াজ

চাবুকের হিস হিস বনাম ফেড়ারেল আইন : ইশতিয়াক রুপু

উপনিবেশ থেকে পরাশক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস

১০

দারুণ মজা: রাজশাহীর কালাই রুটি খেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা

১১

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে রোবট

১২

ফ্লোরিডা কিজ: প্রবাল দ্বীপ ও ৪২ সেতুর রহস্য

১৩

এক মিনিটে ৩২ ‘টি–শার্ট’ পরে বিশ্ব রেকর্ড

১৪

যে দেশে বেতনের বিনিময়ে মা-বাবাকে সময় দেন সন্তানরা

১৫

অন্ধ মানুষ স্বপ্নে কী দেখেন?

১৬

ইবাদত কবুল হওয়ার শর্তগুলো কী কী

১৭

অন্যের হক নষ্ট করে ফেললে করণীয় কী

১৮

অন্যের হক নষ্ট করলে যে শাস্তি পাবেন

১৯

৯/১১ পরবর্তী ‘ওয়ার অন টেরর’র ধাক্কা আমেরিকা এখন টের পাচ্ছে কি

২০