৫ মার্চ ২০২৩, ৬:৪৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানিদের জৈব কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

মানুষের মস্তিস্কের কোষের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সুপারকম্পিউটারের চেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বিজ্ঞানিদের এই গবেষণা কম্পিউটারপ্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। ফ্রন্টায়ার্স ইন সায়েন্স সাময়িকীতে গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধটি গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে ।

এত দিন কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতেই এ কথা শোনা যেত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এ ধরনের যন্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তাঁরা ক্ষেত্রটির নাম দিয়েছেন ‘অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম অঙ্গসদৃশ বুদ্ধিমত্তা। গবেষকেরা দাবি করছেন, তাঁদের এই গবেষণা কম্পিউটারপ্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তাঁরা এই বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে ‘জৈব কম্পিউটার’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।

অর্গানয়েড হলো অঙ্গসদৃশ পরীক্ষাগারে তৈরি কোষ। ত্রিমাত্রিক অঙ্গকাঠামোগুলো সাধারণত স্টেম সেল নামের বিশেষ কোষ থেকে তৈরি করা হয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে পরীক্ষাগারে স্টেম সেল থেকে বিভিন্ন অঙ্গ তৈরিতে কাজ করছেন গবেষকেরা।

বলাহয়েছে কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিপ্লব তৈরি হয়েছে। এই প্রযুক্তি এখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। জৈব কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে কম্পিউটারের শক্তি আরও বাড়িয়ে দেওয়া এবং বর্তমান প্রযুক্তিগত সীমা অতিক্রম করার এক বিরাট প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকেরা বলছেন, মস্তিষ্কের অর্গানয়েডের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের মিল খুবই কম। তবে কৃত্রিমভাবে তৈরি এই মস্তিষ্কের আকার খুবই ছোট। তবে কলমের বিন্দুর সমান এই কোষে যে নিউরন থাকে, তা মানুষের মস্তিষ্কের মতোই কাজ করতে পারে। এই নিউরন বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম। কৃত্রিম মস্তিষ্কের এই কার্যক্রমকে গবেষকেরা বলছেন, ‘একটি পাত্রে সৃষ্ট বুদ্ধিমত্তা’।

জনস হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের পরিবেশগত স্বাস্থ্য ও প্রকৌশলের অধ্যাপক থমাস হারতং ২০১২ সাল থেকে মানুষের ত্বকের কোষ ব্যবহার করে মস্তিষ্কের অর্গানয়েডস তৈরির কাজ শুরু করেন। সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মস্তিষ্কের অর্গানয়েডস থেকে একধরনের জৈবিক হার্ডওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা করেন তিনি। তাঁদের ধারণা, এই নেটওয়ার্ক আরও বেশি শক্তিসাশ্রয়ী ও সুপারকম্পিউটারের চেয়ে শক্তিশালী হবে। একে তাঁরা তাই ‘বায়োকম্পিউটার’ বা জৈব কম্পিউটার নাম দেন।

এই কম্পিউটার মস্তিষ্কের অর্গানয়েডের যে নেটওয়ার্ক তৈরি করবে, তা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ওষুধ পরীক্ষায় বৈপ্লবিক ফল আনবে বলে মনে করেন তাঁরা। আলঝেইমারের মতো রোগের জন্য ওষুধ পরীক্ষায় একে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দেবে, যা ভবিষ্যতে কম্পিউটারের ধারণা পরিবর্তন করে দিতে পারে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গ্রিনকার্ড পেতে অনেক অভিবাসীকেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প প্রশাসন

ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে সাইবার হামলা চালাচ্ছে ইরান

তারেক রহমানের রোডম‍্যাপে ডিজিটাল কন্টেন্টে  বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সিলেটে প্রতিবাদ কর্মসূচি

স্বল্পমূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ, নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারে বিশ্বকাপ টিকিট

হিন্দুদের মানবিক সহায়তায় মিশিগানে আত্মপ্রকাশ করছে ‘অন্তিম সেবা ফাউন্ডেশন’

ট্রাম্পের মিডিয়া সাম্রাজ্যে আর্থিক সংকট, তিন মাসে ৪০০ মিলিয়নের বেশি লোকসান

ভারতের জেন–জিদের নতুন ট্রেন্ড, আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে হামলা, উদ্বেগে মিশিগান ইমাম কাউন্সিল

মিশিগানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদ্‌যাপিত হলো মা দিবস

১০

ফোবানার ৪০তম কনভেনশনে অংশ নেবেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

১১

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল খাতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

১২

প্রযুক্তি বাজারে নতুন চমক, উন্মোচনের পথে ‘ট্রাম্প মোবাইল’

১৩

জাতীয় পর্যায়ে ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করলো বড়লেখার আকিলা ফারহা

১৪

স্বাক্ষরের সামান্য ভুলেও বাতিল হতে পারে এইচ-১বি ও গ্রিন কার্ড আবেদন

১৫

ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে পরিবারছাড়া লক্ষাধিক শিশু

১৬

আইসের গণগ্রেপ্তারে লাগাম, স্বস্তিতে নিউইয়র্কের অভিবাসীরা

১৭

সংসদ সদস্যকে পাত্তাই দিচ্ছেন না উপজেলা প.প কর্মকর্তা, স্থানীয় মহলে চাপা ক্ষোভ

১৮

চুক্তি জটিলতায় মিশিগান মেডিসিন ছাড়তে হতে পারে আড়াই লাখ রোগীকে

১৯

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা ইরানের, পুরস্কার ৫৮ মিলিয়ন ডলার

২০