মাত্র দুই দশক আগেও “কন্টেন্ট ক্রিয়েটর” শব্দবন্ধটি অভিধানে ছিল না। আজ এটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান পেশার নাম এবং কোটি কোটি মানুষের জীবিকার উৎস। ২০০৫ সালে ইউটিউব যখন প্রথম চালু হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করেননি যে এই প্ল্যাটফর্ম একদিন একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূতিকাগার হয়ে উঠবে। কিন্তু সেটাই ঘটেছে এবং সংখ্যার বিচারে এই বিপ্লবের আকার এখন কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক ক্রিয়েটর ইকোনমির আকার দাঁড়িয়েছে ২৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে এটি ১ ট্রিলিয়ন ৩৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করা হয়েছে বার্ষিক ২৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারে। এই পরিসংখ্যান কেবল একটি শিল্পের বৃদ্ধি নয় এটি একটি সভ্যতার অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সংকেত। এই নতুন অর্থনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সৃজনশীল মানুষ এবং তাদের সৃষ্ট ডিজিটাল কনটেন্ট। এই রূপান্তর শুধুমাত্র অর্থনৈতিক পরিমাপে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সামাজিক কাঠামো, কর্মসংস্থানের ধারণা, এবং তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন দেখার পদ্ধতিকেই পুনর্নির্ধারণ করেছে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে গত বছরের শেষের দিকে, বাংলাদেশে ফেরার আগ মুহুর্তে লন্ডনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এক সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হিসেবে ডিজিটাল কনটেন্ট অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এই খাতকে দ্রুত বিকাশমান একটি নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তা পেলে এটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, ডিজিটাল কনটেন্ট সৃষ্টি, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা মিলিয়ে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব, যা জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মকে এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ, আর এই জনশক্তিকে যদি দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, তবে তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, বিশেষ করে ডিজিটাল কনটেন্ট অর্থনীতির মতো উদীয়মান খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আয়ের প্রবাহ সহজ করা এই খাতের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় গ্রহণে যেসব বাধা রয়েছে, বিশেষ করে পেমেন্ট গেটওয়ে ও রেমিট্যান্স ব্যবস্থার জটিলতা, তা দূর করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন । তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করা গেলে ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারবেন। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ইন্টারনেট অবকাঠামোর উন্নয়নকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন। সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছাড়া এই খাতের সম্প্রসারণ সম্ভব নয় বলে তিনি মত দেন। উচ্চ ডাটা খরচ অনেক তরুণের অনলাইন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকে সীমিত করে এমন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে, তিনি বিনামূল্য বিভিন্ন পয়েন্টে অথবা আইটি হাবে ইন্টারনেট ব্যবস্থার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরেন ।
এছাড়া বিভিন্ন জেলায় আইটি হাব গড়ে তোলার ধারণার কথাও আলোচনায় উঠে আসে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ, কো-ওয়ার্কিং স্পেস, মেন্টরশিপ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন । এতে শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, গ্রামীণ তরুণরাও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবে। এদিকে তিনি দেশে ফিরে আসার পর, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ডিজিটাল কনটেন্ট শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন । বিশেষ করে নীতিগত সহায়তা, আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
ডিজিটাল কনটেন্ট অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিস্তৃত একটি খাত, যা ইতোমধ্যে অনেক দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশেও ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে বহু তরুণ আয় করছে, তবে খাতটি এখনও কাঠামোগত ও নীতিগতভাবে পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। এ অবস্থায় একটি সুসংগঠিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ করা গেলে বৈশ্বিক ডিজিটাল বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
এদিকে আমাদের পাশ্ববর্তীদেশ পাকিস্তানে ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইকোনমির আকার প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি সক্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাজ করছেন, যা দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন গতিশীলতা যোগ করেছে। এছাড়া ভারত ভৌগোলিক দিক থেকে যেমন বিশাল, তেমনি আজ ডিজিটাল কনটেন্ট অর্থনীতিতে এর উপস্থিতি অপ্রতিরোধ্য। ভারতের ডিজিটাল কনটেন্ট বিপ্লবের চালিকাশক্তি হলো বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা। কোহেরেন্ট মার্কেট ইনসাইটসের গবেষণা অনুযায়ী, ইউটিউব একাই ২০২৪ সালে ভারতের জিডিপিতে ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবদান রেখেছে এবং প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল এই তিন বছরে ইউটিউব ভারতীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের পেছনে মোট ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে।
এছাড়া ইউরোপের আরেকটি শক্তিশালী অর্থনীতি যুক্তরাজ্য, যেখানে কন্টেন্ট অর্থনীতি এখন জাতীয় জিডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হয়ে উঠেছে। লন্ডন, ম্যানচেস্টার এবং ব্রিস্টলের মতো শহরগুলিতে এখন সম্পূর্ণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স দ্বারা প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে যুক্তরাজ্যের ইউটিউবার এবং অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা প্রতি বছর শত কোটি পাউন্ড সমমূল্যের অর্থনৈতিক অবদান রাখছেন। এটি শুধু সরাসরি আয় নয়, বরং পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত করে। যার ফলে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজেও ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে ৯০ জন কনটেন্ট.. ক্রিয়েটরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন , এটি কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, এটি ছিল রাজনৈতিক স্বীকৃতির এক অনন্য মুহূর্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ার ডিজিটাল কন্টেন্ট অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির কন্টেন্ট শিল্প প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এখানে কন্টেন্ট শিল্প শুধু একটি আধুনিক ঘটনা নয়, বরং জাতীয় কৌশলের একটি মূল অংশ। “হ্যালিউ” বা কোরিয়ান ওয়েভ নামের এই সাংস্কৃতিক প্রবাহ গত দুই দশকে এশিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। বিটিএস এবং ব্ল্যাকপিঙ্কের মতো কে-পপ গ্রুপগুলি শুধু সঙ্গীত শিল্পী নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠেছে। তাদের কনসার্ট, পণ্য বিক্রয় এবং ডিজিটাল কনটেন্ট বিলিয়ন ডলার রাজস্ব তৈরি করছে। কেবল সঙ্গীত নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রামা সিরিজগুলিও আন্তর্জাতিক বাজারে ঝড় তুলেছে। নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম এবং অন্যান্য স্ট্রিমিং সার্ভিসে দক্ষিণ কোরিয়ান কনটেন্টের চাহিদা অভূতপূর্ব। অর্থনৈতিক পরিমাপে, দক্ষিণ কোরিয়ার কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রি বিলিয়ন ডলারের জিডিপি অবদান রাখছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
গত এক দশকে মোবাইল প্রযুক্তি এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যা পূর্বে অসম্ভব মনে হতো। একটি স্মার্টফোন এখন একজন মানুষের সম্পূর্ণ কন্টেন্ট প্রোডাকশন স্টুডিও হয়ে উঠতে পারে। উন্নত ক্যামেরা, এডিটিং সফটওয়্যার এবং দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ , সবকিছুই এখন প্রতিটি হাতের মুঠোয়। বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সংখ্যা এখন ৬ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে। এর মানে হলো, বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের কাছে কন্টেন্ট তৈরি এবং শেয়ার করার উপায় রয়েছে। এই প্রযুক্তিগত লোকতান্ত্রিকীকরণ ডিজিটাল কনটেন্ট অর্থনীতির ভিত্তি। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি কেবল সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নয়। এগুলি হয়ে উঠেছে বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম যেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিজ্ঞাপন রাজস্ব ভাগ করে নেয়। এই রাজস্ব শেয়ারিং মডেল ক্রিয়েটরদের জন্য প্রকৃত আর্থিক প্রণোদনা তৈরি করেছে।
একসময় একজন সৃজনশীল মানুষের সফলতা মূলত তার স্থানীয় বাজার ও সীমিত দর্শকের মধ্যেই আবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে গেছে। এখন একজন বাংলাদেশি ইউটিউবার খুব সহজেই ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আমেরিকার দর্শকদের কাছেও পৌঁছে যেতে পারছেন। বৈশ্বিক এই অডিয়েন্সে প্রবেশাধিকারই ডিজিটাল কনটেন্ট অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইউটিউবের স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ সুবিধা, টিকটকের ভাইরাল অ্যালগরিদম এবং ইনস্টাগ্রামের রিলস ফিচার সবকিছু মিলিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এখন ভাষা ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন্তায় প্রস্তাবিত “কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হাব” চালু হলে বাংলাদেশের তরুণদের সাফল্যের গল্প আরও বিস্তৃত হতে পারে । এই হাব শুধু কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি কর্মক্ষেত্র হবে না, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। এখানে ভিডিও প্রোডাকশন হাউস, পেশাদার ভিডিও এডিটর, গ্রাফিক ডিজাইনার, ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, ব্র্যান্ড ম্যানেজার এবং অ্যানালিটিক্স এক্সপার্টদের সমন্বয়ে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের হাজারো তরুণ ঘরে বসেই বৈশ্বিক বাজারে কাজ করার সুযোগ পাবে।
তাই সরকার যদি এই খাতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করে, তাহলে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের “নতুন সৃজনশীল অর্থনীতির চালক” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বেশি সময় লাগবে না। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল কনটেন্ট শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা দ্রুত তৈরি হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের এখন থেকেই এই খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও মনিটাইজেশন কাঠামো সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি এই শিল্পকে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে। এআই নির্ভর ভিডিও এডিটিং, ভয়েস জেনারেশন, সাবটাইটেল, গ্রাফিক্স ও স্বয়ংক্রিয় কন্টেন্ট তৈরির প্রযুক্তি ইতোমধ্যে কনটেন্ট প্রোডাকশনকে সহজ ও দ্রুত করে তুলেছে। ফলে একজন নির্মাতা অল্প সময় ও কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের কন্টেন্ট তৈরি করতে পারছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এআইভিত্তিক কনটেন্ট উৎপাদন ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
সুতরাং ডিজিটাল কন্টেন্ট অর্থনীতি এখন আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয় , এটি বর্তমানের সম্পূর্ণ বাস্তবতা। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য , সহ বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন এই নতুন অর্থনীতি থেকে তাদের জীবিকা অর্জন করছে। ডিজিটাল যুগে “কন্টেন্ট ” এখন শুধুমাত্র তথ্য নয় এটি সম্পদ, শক্তি এবং সুযোগের একটি নতুন রূপ। যারা এই সুযোগ গ্রহণ করে, তারা শুধু ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি অর্জন করবে না, বরং তাদের সমাজ এবং জাতির অর্থনীতিতেও অবদান রাখবে। এটি সত্যিই একটি নতুন অর্থনৈতিক যুগের সূচনা।
মন্তব্য করুন