টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি সব উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের বেশ কিছু জায়গা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এই দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ । পানিবন্দি মানুষদের রক্ষায় সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত চলছে যা মাঝে মাঝে ভারি বর্ষণে রূপ নেয়। সোমবার সন্ধ্যার পর বৃষ্টি বন্ধ হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও থেমে থেমে চলছে। স্থানীয় ছোট-বড় কিছু যান ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে স্টেশনের বাস কাউন্টারগুলোতে শত শত যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে।

এদিকে কর্ণফুলী, শঙ্খ ও ডলু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী অনেক ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। বন্যার পানি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে তীব্র দুর্ভোগে পড়েছেন। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল ও খাবার বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি সব উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ফটিকছড়ি ছাড়া কম-বেশি সব উপজেলাই প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা। সাতকানিয়ার সব ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় পানিবন্দি মানুষদের রক্ষায় সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তার জন্য ৪০০ টন চাল, শুকনো খাবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক ফখরুজ্জামান।
মন্তব্য করুন