অব্যবহৃত ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশের সার্কিট বোর্ড দিয়ে স্বর্ণ তৈরির পদ্ধতি আবিস্কার

পুরোনো অথবা নষ্ট হওয়া ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ দিয়ে শত শত কেজি সোনা তৈরির এক পেটেন্ট আবিষ্কার করেছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিন্ট নামের একটি কোম্পানি যা শুনলে চমকে যাবে যে কেউ।
ইলেকট্রনিক বর্জ্য প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে প্রযুক্তির এই যুগে। এসব ই-বর্জ্যের ভেতরে লুকোনো মূল্যবান ধাতুগুলো বের করে নিয়ে আসার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে উক্ত ব্রিটিশ কোম্পানিটি। যেই কোম্পানিটি আবার যুক্তরাজ্যের সরকারি মুদ্রা তৈরির কাজ করে যাচ্ছে বিগত ২ বছর যাবৎ।
কোম্পানির কেমেস্ট্রি টিম কানাডিয়ান স্টার্ট-আপ এক্সিরের সঙ্গে এমন একটি পেটেন্ট আবিষ্কারের দাবি করেছে যা দিয়ে পুরানো ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ যেমন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ও অন্যান্য এক্সেসরিজ এর ভেতরের সার্কিট বোর্ডগুলো থেকে ৯৯ শতাংশ সোনা বের করছেন তারা। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোদমে চলো হয়নি যা চলো হয়ে গেলে শত শত কিলোগ্রাম সোনা উৎপাদনে সক্ষম হবে ওই প্রতিষ্টানটি।

যদিও এই পেটেন্টটি গুপন রাখা হয়েছে তার পরেও তাদের ডেমো ল্যাবরেটরির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ম্যাজিক গ্রিন দ্রবণ’ নামক একধরণের ধরণ তারা তৈরী করা হয় যা খণ্ডিত সার্কিট বোর্ডের সঙ্গে মিশ্রণের পরই সোনা তৈরির প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। প্রথমে ওই মিশ্রণে থাকা সোনা দ্রবীভূত হয়ে তরল আকারে বেরিয়ে আসে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই। সেই প্রক্রিয়া ২০ বার প্রয়োগের ফলে দ্রবীভূত সোনার ঘনত্ব বেড়ে যায় যা ফিল্টার করার পর একটি বিশেষ চুল্লিতে গলিয়ে নাগেটের আকার দেওয়া হয়- যেগুলো দিয়ে কানের দুল, নেকলেস ও অন্যান্য অলঙ্কার তৈরি করা যায়।

টনি বেকার, কোম্পানিটির ম্যানুফ্যাকচারিং ইনোভেশনের পরিচালক, বলেন,পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক সামগ্রী সংগ্রহ করে সার্কিট বোর্ডগুলো যান্ত্রিকভাবে আলাদা করে সোনাবিহীন অংশগুলো সরিয়ে ফেলা হয় তারপরে ইউএসবি পোর্টের মতো সোনাবহনকারী অংশগুলোকে ৫০০ লিটারের চুল্লিতে পাঠানো হয় এবং সেখানেই ম্যাজিক গ্রিন দ্রবণ যোগ করা হয়। তারপরে সেগুলি পরবর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সোনার নাগেটে পরিণত হয়।

 

 

 

 


by

Tags: