বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অটিজম সম্পর্কে জানুন

অটিজম হচ্ছে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। যেখানে শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ, সামাজিক আচরণ, সামাজিক কল্পনা ইত্যাদি ক্ষেত্রসমূহে বেশ সমস্যা লক্ষ করা যায়। বিশেষজ্ঞরা একে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার বলেন। শিশুর জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর বিকাশ তিনটি ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়।

 

১ সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধা:

অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি আগ্রহ না থাকা, কে কী করছে, তা নিয়ে কৌতূহল না থাকা। অন্যের আচরণ বুঝতে না পারা।

 

২ যোগাযোগ স্থাপনে বাধা:

মুখের ভাষায় কথা বলতে না শেখা। কিছু কিছু কথা বলতে পারলেও অন্যের সঙ্গে আলাপচারিতায় সমর্থ না হওয়া। ইশারা-ইঙ্গিত করতে না পারা।

 

৩ আচরণের ভিন্নতা:

পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করা, একই কাজ বারবার করা, একই খেলা বারবার খেলা। অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ ও আচরণের সীমাবদ্ধতা হলো এমন শিশুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

 

এ ছাড়া এ ধরনের শিশুরা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না। কোনো খেলনা বা আনন্দদায়ক বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয় না বা বিশেষ আচরণ বারবার করতে চায়। যেমন, বারবার হাত নাড়ানো। কোনো বিশেষ বস্তুর প্রতি অতি মাত্রায় আসক্তি থাকা। ভাষার ব্যবহার রপ্ত করার পর আবার ভুলে যাওয়া বা অতিরিক্ত রুটিন মেনে চলাও এদের বৈশিষ্ট্য।

 

অটিজম কি কারনে হয়

অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখন পর্যন্ত নির্ণয় করা না গেলেও কোনো কোনো বিজ্ঞানী মনে করেন, এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।

১. জিনগত সমস্যা।

২. পরিবেশগত সমস্যা।

অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ডিএনএ কপি নম্বর ভ্যারিয়েন্ট নামক ত্রুটি বহন করে। পরিবেশের বিষাক্ত উপকরণ জিনের ওপর কাজ করে স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে। এই বিষাক্ত উপাদান গর্ভের শিশু ও শিশুর বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ের মস্তিষ্কের কোষকে ধ্বংস করে। যেসব রাসায়নিক দ্রব্য অটিজমের জন্য দায়ী বলে ধারণা করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মার্কারি, লেড, পোকা-মাকড় মারার বিষ, খাদ্য সংরক্ষণ করার রাসায়নিক দ্রব্য, খাদ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কৃত্রিম রং ইত্যাদি। কখনো কখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মস্তিষ্কের কিছু অসুবিধা লক্ষ করা যায়। যেমন: মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ক্রিয়া, নিউরোকেমিক্যালের অসামঞ্জস্যতা, শিশুর জন্মপূর্ব বা জন্মপরবর্তীকালের কোনোরূপ সংক্রমণ, মস্তিষ্কের গঠনগত ত্রুটি ইত্যাদি।

 

ব্যবস্থাপনা

গবেষণায় দেখা গেছে যে শৈশবে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অটিজম নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু প্রাপ্তবয়সে অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে। শৈশবে ব্যবস্থা নেওয়া বলতে বোঝায় জন্মের ১৮ মাস থেকে ৩৬ মাস বয়সের মধ্যে অটিজম শনাক্তকরণ ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে শিক্ষা পরিকল্পনার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিশুকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া। এ ধরনের শিশুর প্রধান চিকিৎসা স্পিচ থেরাপি, নিওরোবিহেভিওরাল থেরাপি। অতিরিক্ত আচরণগত সমস্যা, ঘুমের সমস্যা ও শারীরিক সমস্যার জন্য মেডিকেল চিকিৎসা এবং বিশেষ স্কুলে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন সংসদের জন্য ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের উদ্যোগে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত

ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করল স্পেন

ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে না ইরান

ওয়াশিংটনে টাইটানিক ধাঁচে ট্রাম্প–এপস্টেইন ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পরিবারের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষ জাতি গঠন সরকারের অগ্রাধিকার

রাজনীতি এখন সস্তা তামাশায় পরিণত হয়েছে ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিওর জবাবে ওবামা

ইতিহাসের সর্বোচ্চ করদাতা হওয়ার পথে মাস্ক জীবদ্দশায় দেবেন ৫০০ বিলিয়ন ডলার

এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে বেড়েছে পরিযায়ী ও জলচর পাখির সংখ্যা

১০

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন ডায়ানা মোরেনো বিজয়ী

১১

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

১২

১৩

ওয়াশিংটন ডিসি দূতাবাসে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

১৪

নিউইয়র্কের চার এলাকায় চালু হচ্ছে শিশুদের ফ্রি চাইল্ড কেয়ার

১৫

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বাণিজ্য চুক্তি

১৬

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সহায়তা নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু

১৭

ইরানে যুদ্ধে অনীহা, আপত্তি জানাচ্ছেন অনেক মার্কিন সেনা

১৮

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব: দেশে ডলারের দাম বেড়েছে

১৯

একুশে পদক পেলেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড দল

২০