যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭) জন্য নির্ধারিত ৩৩,০০০ এইচ-২বি (H-2B) ভিসার কোটা আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ হয়ে গেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (USCIS) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পর আসা এই মেয়াদের নতুন কোনো আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না।
এই ঘোষণার ফলে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ-কৃষি খাতে কাজ করতে ইচ্ছুক অনেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটা পূর্ণ হলেও বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ এখনই শেষ হয়ে যায়নি। একটু সচেতন হয়ে সঠিক নিয়মে চেষ্টা করলে এখনও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সামনে রয়েছে দ্বিতীয় ভাগের ৩৩,০০০ কোটা
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর অ-কৃষি খাতের শ্রমিকদের জন্য মোট ৬৬,০০০ এইচ-২বি ভিসা দিয়ে থাকে, যা দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমার্ধের কোটা শেষ হলেও আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ মেয়াদের কাজের জন্য আরও ৩৩,০০০ ভিসা বাকি রয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা আগ্রহী বাংলাদেশিদের আগামী বছরের শুরুতেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০২৭) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে মার্কিন নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আসতে পারে অতিরিক্ত ‘সম্পূরক ভিসা‘
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত কোটা শেষ হওয়ার পর মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকের ঘাটতি মেটাতে দেশটির সরকার প্রতি বছরই অতিরিক্ত বা সম্পূরক (Supplemental) ভিসা বরাদ্দ করে। বিগত ২০২৬ সালেও নিয়মিত কোটার বাইরে আরও প্রায় ৬৪,৭১৬টি অতিরিক্ত ভিসা দেওয়া হয়েছিল। ২০২৭ অর্থবছরের জন্যও এমন বিশেষ ঘোষণা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
কোটামুক্ত পদ ও বিকল্প ভিসার পথ
যারা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-২বি ভিসায় কর্মরত আছেন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়াতে বা নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য এই বাৎসরিক কোটা কোনো বাধা হবে না। এছাড়া, কৃষিকাজে আগ্রহী বাংলাদেশিরা ‘এইচ-২এ’ (H-2A) ভিসার জন্য চেষ্টা করতে পারেন, যার কোনো বাৎসরিক কোটা বা সীমা থাকে না। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি বা প্রকৌশলের মতো বিশেষায়িত পেশাদারদের জন্য ‘এইচ-১বি’ (H-1B) ভিসার পথও খোলা রয়েছে।
প্রতারণা এড়াতে সতর্কতার আহ্বান
এইচ-২বি ভিসার এই কোটা পূর্ণ হওয়ার সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র বা দালাল যেন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অনুমোদিত নিয়োগকর্তার স্পন্সরশিপ বা বৈধ চাকরির অফার ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি সরাসরি এই ভিসা এনে দিতে পারে না। তাই যেকোনো আর্থিক লেনদেনের আগে মার্কিন অভিবাসন বিভাগের (USCIS) অফিসিয়াল পোর্টালে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন