আফজাল হোসেন রুমেল
৩ মে ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বাড়ছে সহিংসতা ও বিতর্ক ‘গুপ্ত’ ইস্যুতে রাজনীতি উত্তপ্ত

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘গুপ্ত’ ইস্যুকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ নিচ্ছে| চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া এই বিতর্ক সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংসদীয় অচলাবস্থার দিকে গড়িয়েছে| পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা|

 

রাজনৈতিক মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গুপ্ত’ বলতে বোঝানো হচ্ছে এমন ব্যক্তিদের, যারা প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও গোপনে অন্য কোনো দল বা মতাদর্শের হয়ে কাজ করছেন|

 

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিতে যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান| গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে ‘গুপ্ত’ সন্দেহে মারধর, মিছিল-পাল্টা মিছিল, এমনকি হল দখলকে কেন্দ্র করে সহিংসতা দেখা গেছে|

 

শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে| রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে| আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেছে|

 

বিশ্লেষকদের মতে, ‘গুপ্ত রাজনীতি’ মূলত প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে| এর মাধ্যমে ভেতর থেকে সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা, তথ্য সংগ্রহ এবং বিভ্রান্তি ˆতরি করা সম্ভব হয়|

 

তবে এর ফলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে| ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বিশ্লেষকরা বলেন, গোপন কৌশলনির্ভর রাজনীতির ঝুঁকি নতুন নয়|

 

১৯৫৪ সালে মার্কিন জেনারেল জিমি ডুলিটল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডুয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার-কে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ ধরনের কার্যক্রমের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন| সেই সতর্কবার্তার প্রতিফলন আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা| রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে কিছু রাজনৈতিক শক্তির প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সীমিত থাকায় তারা গোপন তৎপরতার পথ বেছে নিয়েছে| ফলে ‘গুপ্ত’ প্রবণতা এখন একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে|

 

তবে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আস্থার সংকটে| একই দলের ভেতরেই কর্মীদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে, যা সংগঠনের ঐক্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে| এর ফলে গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়ছে|

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্লেষকদের পরামর্শ—সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান ও অবাধ রাজনৈতিক পরিসর নিশ্চিত করা, দলীয় কাঠামোয়  স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করা এবং ˆনতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা| অন্যথায় ‘গুপ্ত’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে|

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১০

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১২

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৩

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৪

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৭

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৮

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

১৯

নবীনদের বরণ, গ্র্যাজুয়েটদের বিদায়: ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএ’র যাত্রা শুরু

২০