সৌদি গেজেট
১৭ অগাস্ট ২০২৪, ২:৫৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পুরুষ শূন্যতায় যে গ্রামের সুন্দরী নারীরা!

গ্রামজুড়ে শুধুই নারীদের বাস। অনুমতি নেই কোনো পুরুষ প্রবেশের। তিন শতাধিক নারী বসবাস করেন সেখানে। কেউ কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চাইলে তাকে তৎক্ষণাৎ বের করে দেয়া হয় গ্রাম থেকে। শুনতে অবাক লাগলেও এমন একটি গ্রাম রয়েছে মিসরে।

 

সামাহা নামের গ্রামটিকে মিসর সরকার বরাদ্দ করেছে বৃদ্ধা, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য। গ্রামটির অবস্থান দক্ষিণ মিসরের আসওয়ান শহর থেকে ১২০ কি.মি দূরে ইদফো নামক ছোট শহরে। গ্রামটির চারপাশে কৃষিভূমি। পশু-পাখি পালন ও চাষাবাদ করে জীবন ধারণ করেন গ্রামের নারীরা।

 

সৌদি গেজেট জানায়, গ্রামটির ৩০৩টি পরিবারে শুধু নারী ও মেয়ে শিশুর বাস। প্রত্যেক নারীকে একটি করে বাড়ি ও এক খণ্ড করে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের গৃহসামগ্রী ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তাদের স্বল্পমেয়াদি ঋণও দেয়া হয় কৃষিকাজের জন্য।

 

গ্রামের প্রধান তত্ত্বাবধানকারী হামদি আল কাশেফ বলেন, ‘গ্রামের প্রকল্পটি শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। সে সময় কৃষি মন্ত্রণালয় শুধু তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা নারীদের জন্য দুটি গ্রাম বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

 

একই ধরনের একটা গ্রাম দেখা যায় আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায়। কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের ওই গ্রামের নাম ‘উমোজা’। বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যের জন্য গ্রামটিকে বলা হয় নোম্যান্স ল্যান্ড। নোম্যান্স ল্যান্ড বলতে সাধারণত দুদেশের সীমান্তসংলগ্ন এমন এলাকাকে বোঝায় যেখানে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সবারই প্রবেশ নিষেধ। তবে কেনিয়ার ওই গ্রামকে নোম্যান্স ল্যান্ড দ্বারা বোঝানো হয়, এখানে কোনো পুরুষ নেই।

 

শুধুই নারীদের গ্রাম। এখন থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে রেবেকা লোলোসোলি নামের এক নারী নারীশাসিত এ গ্রামের গোড়াপত্তন করেন এবং পুরুষদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেন। কেনিয়ার সামবুরু জাতিগোষ্ঠীর সদস্য রেবেকা। তিনি নারীকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নির্যাতন ও লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাতে এই গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই বর্তমানে ‘উমোজা উসাউ উইমেন্স ভিলেজ’-এর প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

 

এমন আরেকটি গ্রাম রয়েছে ব্রাজিলে। দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের নোইভা ডো করডেরিয়ো এমন একটি গ্রাম যেখানে শুধু সুন্দরী নারীরাই বাস করেন। ১৮৯০ সালে এক মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়া হয়। এরপর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তিনি চলে আসেন গ্রামটিতে। মারিয়া সেনহোরিনা ডে লিমা নামের সেই মেয়েটি ১৮৯১ সালে এই গ্রামের পত্তন করেন। গ্রামটির সন্ধান পাওয়ার পর আরও অনেক নারীই সেখানে এসে বসবাস করতে শুরু করেন।

 

এ সময় এই এলাকায় শুধু একটি চার্চ ছিল। চার্চের লোকদের সঙ্গে মিলে ঘর-বাড়িও তৈরি করে ফেলেন তারা। যারা বিয়ে করতেন চান না তারা বা যারা একা থাকতে চান তারা এই গ্রামে বাস করেন। চাষসহ প্রয়োজনীয় সব কাজই নিজেরা করে এখানকার নারী এবং তরুণীরা। তাদেরও প্রধান পেশা কৃষি।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চুল গজাতে পেয়ারা পাতা—আসলেই কি কাজ করে?

মার্কিন নাগরিকত্ব নীতিতে আবারও ট্রাম্পের কড়াকড়ি, মানলেন না আদালতের রায়

৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক

হ্যাকিং বিতর্কে মেটার এআই, বাড়ছে সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কা

ইসরাইল ইস্যুতে অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ায় কি প্রভাব পড়বে

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের রকেট

আনন্দঘরে বিপুল আনন্দ

‘জুলাইকার’ এই বিতর্কের জন্য আদালত থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া না হলে সেটা জাতির জন্য লজ্জার হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী আবদুল আল-সাইয়েদ, ব্যর্থ কোটি কোটি ডলারের প্রচারণা

১০

মিশিগানে দক্ষিণ সুরমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত

১১

বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস, ৫ অঞ্চলে মিশন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

১২

মিশিগানে ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির বনভোজনে প্রাণের উচ্ছ্বাস

১৩

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারিতে আল-সাইয়েদকে হারাতে কেন এত মরিয়া ইসারায়েলি লবি এআইপ্যাক

১৪

মুনা দাওয়াহ কনফারেন্স ২০২৬ সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং

১৫

শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন সাকিব আল হাসান

১৬

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়ে বাধ্য করতে কোন কৌশলে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ইরান

১৭

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের হিসাব বন্ধের কারণ জানাল ক্যাপিটাল ওয়ান

১৮

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরিতে সহযোগিতায় আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

১৯

নিউইয়র্কে বড়লেখাবাসীর মিলনমেলা বড়লেখা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির বার্ষিক বনভোজন

২০