দ্য গার্ডিয়ান
৩১ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় ‘জাতিগত নির্মূল’ ঠেকাতে বিশ্বকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে: জাতিসংঘ মহাসচিব

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দৃঢ় পদক্ষেপ না নিলে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান চালাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণের মুখে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়তে থাকায় গুতেরেস এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন।

 

গুতেরেসের এ সতর্কবার্তার আগে গত মঙ্গলবার গাজার বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলের এক হামলাতেই অন্তত ৯৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় জাতিসংঘ বলেছে, গত এক সপ্তাহে গাজায় অন্তত যে সাতটি হামলায় অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে, এটি তার একটি। গাজায় একদিকে প্রাণহানি বেড়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি বাধায় এ পর্যন্ত ত্রাণ সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় গাজার বাসিন্দাদের অন্তত এ উপত্যকার অংশবিশেষ থেকে হলেও ইসরায়েল তাড়াতে চাইছে, এমন অভিযোগ বাড়ছে।

কলাম্বিয়ায় বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সম্মেলন ‘কপ১৬’–এর ফাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সময় গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব ইঙ্গিত দেন যে এ পর্যন্ত গাজায় ‘জাতিগত নির্মূল’ ঠেকিয়ে রাখা গেছে। ইসরায়েলের প্রচণ্ড চাপের মুখে গাজার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছাড়তে রাজি না হওয়ায় এবং সেখান থেকে তাঁদের গণহারে ভিন্ন স্থানে স্থানান্তর আরবরা মেনে না নেওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

 

এদিকে গুতেরেস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘সম্ভবত (ইসরায়েলের) অভিপ্রায় হলো, ফিলিস্তিনিরা গাজা ছেড়ে চলে যাক এবং সেখানে অন্যরা দখলদারি প্রতিষ্ঠা করুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে এখনো সেটি হয়নি এবং আমি তাঁদের সাহস ও মনোবল এবং আরব বিশ্বের দৃঢ়প্রত্যয়ের শ্রদ্ধা জানাই।’ জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘গাজার বাসিন্দারা যাতে নিজেদের ভূমিতে থাকতে পারেন, সেই লক্ষ্যে তাঁদের সহায়তা করতে ও সম্ভাব্য জাতিগত নির্মূল ঠেকাতে আমরা সম্ভব সবকিছু করব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জাতিগত ওই নির্মূল সংঘটিত হতে পারে।’ মহাসচিবের এ বক্তব্যের আগে গত সপ্তাহে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে বলেছেন, গাজায় এরই মধ্যে জাতিগত নির্মূল অভিযান শুরু হয়েছে। অবশ্য পদ্ধতিগত উপায়ে গাজার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগানে এডভোকেট বৃন্দের পরিচিতি ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মার্কিন ‘কঠোর ৫ দফা’ প্রস্তাবে না বলল ইরান

আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই মিশিগানে বসছে বাংলাদেশি আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদে ইতি টানতে যাচ্ছেন স্টারমার

হাউজিং ভাউচার তহবিল কমায় নিউইয়র্কে বাড়ছে আবাসন সংকটের শঙ্কা

কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের মানববন্ধন ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালুর দাবিতে

তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে শেষকৃত্যের ব্যয় বেড়ে চরম চাপে প্রবাসী মুসলিম পরিবার

জেলা প্রশাসকের প্রবাসী সম্মাননায় ভূষিত প্রিন্সিপাল মাওঃ আতিকুর রহমান

গেমস্টপের ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ইবে

১০

আইসের ‘নো-বন্ড’ নীতি বাতিল, জামিনে মুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন অভিবাসীরা

১১

মৌলভীবাজার শহরে ছয় তলা ভবন থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১২

জরুরি সেবায় কাটছাঁট নয়, ১২৪.৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট আনলো নিউইয়র্ক সিটি

১৩

কোভিডকালে ট্যাক্স ফাইলিংয়ে জরিমানা দেওয়া ব্যক্তিদের রিফান্ডের সম্ভাবনা

১৪

ফেন্টানাইল চক্রে জড়িত অভিযোগ, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানসহ ১৩ জনকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

১৫

ভিসা আবেদনের ব্যাংক স্টেটমেন্টে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘কিউআর কোড’

১৬

ইরান সংঘাতের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কংগ্রেসে তোপের মুখে পেন্টাগন প্রধান

১৭

পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য, নাহিদের নৈপুণ্যে মিরপুরে রেকর্ডের দিন

১৮

সবার আগে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে চমক দিল বসনিয়া

১৯

‘লাইফ সাপোর্টে’ চলছে ইরান যুদ্ধবিরতি, দাবি ট্রাম্পের

২০