আবুল কাসেম
৯ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আদানি গ্রুপ টার্গেট হয়েছে: শারদ পাওয়ার

শারদ পাওয়ার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ গবেষণা সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ভারতের বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপকে নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সেটা ‘টার্গেটেড’ (লক্ষ্যবস্তু) মনে হচ্ছে ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিক শারদ পাওয়ারের কাছে।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারতসহ বিভিন্ন পরিসরে আদানি গ্রুপকে নিয়ে আলোচনা হলেও শিল্পগোষ্ঠীটির পক্ষেই আওয়াজ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে যারা আদানি গ্রুপকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা করেছে, তাদের সমালোচনা করেছেন শারদ।

শারদ পাওয়ার ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান। এনসিপি ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের রাজনৈতিক মিত্র। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনায় সরব কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এই পরিস্থিতি শারদ পাওয়ারের এমন মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কর স্বর্গ (ট্যাক্স হ্যাভেন) ব্যবহারের পাশাপাশি শেয়ারের দাম বাড়াতে নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে আদানির কোম্পানি। বাজারে শেয়ারের দামের মূল্যায়ন বেশি করে দেখানো হয়েছে। যদিও বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে আসছে আদানি গ্রুপ। বরং তারা বলছে, আদানি গ্রুপের আর্থিক ক্ষতিসাধনে এ ধরনের বানোয়াট প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শারদ পাওয়ার সেই সুরেই বলেন, ‘দেশের একটি শিল্পগ্রুপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট হয়েছে, এটাই দেখা যাচ্ছে। তারা যদি কোনো ভুল করে, তবে তো সেটার তদন্ত হওয়া উচিত।’

এনসিপির রাজনৈতিক মিত্র কংগ্রেস হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদনের অভিযোগ তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) তদন্ত চাইলেও এ দাবিতে একমত নন শারদ।

অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্ট একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন বিশেষজ্ঞ, একজন প্রশাসক, একজন অর্থনীতিবিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছে। তাদের সময় ও গাইডলাইন দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি টেনে শারদ পাওয়ার বলেন, ‘বিরোধীরা সংসদীয় কমিটি চাইছে। …সুপ্রিম কোর্টকে কেউ প্রভাবিত করতে পারে না, তাদের নির্দেশে পরিচালিত তদন্তেই সত্য উন্মোচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। সুতরাং সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত শুরুর পর জেপিসি তদন্তের কোনো গুরুত্ব নেই। এটার প্রয়োজনও নেই।’

এনসিপি প্রধান বলেন, একসময় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে টাটা-বিড়লার নাম বলা হতো, অথচ তাতে সামনে চলে আসতো টাটা-বিড়লাই। একসময় মনে হলো আমরা সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে টাটা-বিড়লাকে কেন টেনে আনি, যাদের দেশের প্রতি অনবদ্য অবদান আছে। তবু কেউ কেউ টাটা-বিড়লাকেই টার্গেট করতো। সেই জায়গায় এখন নতুন নাম এসেছে। আপনি যদি সরকারের সমালোচনা করতে চান, নাম নিচ্ছেন আম্বানি-আদানির। কেউ যদি ভুল করে অবশ্যই তার সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু অনর্থকভাবে কাউকে আক্রমণ করার বিষয়টি আমার বুঝে আসে না।

এসময় পেট্রোকেমিক্যাল খাতে আম্বানি এবং বিদ্যুৎ খাতে আদানি গ্রুপের অবদানের কথা তুলে ধরেন শারদ পাওয়ার। তিনি বলেন, এগুলো কি দেশের দরকার নেই? তারা তো দেশের কথা ভেবেই এসব দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এমন অবকাঠামো বানিয়েছেন। তারা অন্যায় করলে সমালোচনা করুন, কিন্তু যারা এত বড় বড় পরিকাঠামো বানিয়েছেন, তাদের কেন এভাবে বলবেন?বিজ্ঞপ্তি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লেখক ইশতিয়াক রুপু’র স্মৃতিচারনমূলক গদ্যের বই ‘জলজোছনার জীবনপত্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ফ্যাশন ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে পণ্য তৈরিতে জোর হুয়াওয়ের

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের জন্য অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল

প্রবাসে দলাদলি, মারামারি, রক্তারক্তি আর কত? এতে বাঙালি কমিউনিটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ বিশ্বব্যাংকের (এমডি) অ্যানা বেজার্ড এর

বিপিএল এর কিছু প্লেয়ার এর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কোচ হাথুরু

বসে বসে কাজ, ডেকে আনে সর্বনাশ

বড়লেখায় ভাষা শহীদদের প্রতি নিসচা’র শ্রদ্ধা নিবেদন: নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ

প্রতিদিন শ্যাম্পু করা ও হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার কি চুলের ক্ষতি করে?

রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ কী?

১০

যেসকল দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া উমরাহ পালন করতে পারবেন

১১

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলো আর্জেন্টিনা

১২

হার্ট সতেজ রাখতে প্রয়োজন খাদ্যভ্যাসে ৫টি পরিবর্তন

১৩

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

১৪

টং টং: বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিশু

১৫

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: ২ বাংলাদেশি যুবক নিহত

১৬

রাশিয়ায় কারাবন্দী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যু

১৭

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড: নতুন চুক্তিতে সাকিব-শান্তদের বেতন

১৮

পাকিস্তানের নির্বাচনে যেভাবে ভূমিকা বদল হল ইমরান খান ও নওয়াজ শরিফের

১৯

মিয়ানমার সংকট: চীন-ভারতের স্বার্থ আর বাংলাদেশের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

২০