বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৭ অগাস্ট ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন নাগরিকত্ব নীতিতে আবারও ট্রাম্পের কড়াকড়ি, মানলেন না আদালতের রায়

সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করেই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার এ পদক্ষেপ নেন তিনি। এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও মার্কিন সংবিধানের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করলেন, যদিও এ বিষয়ে তাঁর আগের একটি চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন।

 

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করা। হোয়াইট হাউসের মূল লক্ষ্য, কথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা ‘সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ’ বন্ধ করা। এ প্রক্রিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন।

 

গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল তিনি নির্বাহী আদেশের পথই বেছে নেন। এমন আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারিত হলেও তা কংগ্রেসের পাস করা আইনের মতো শক্তিশালী নয়। এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিশানা করা হয়েছিল।

 

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আওতাভুক্ত নয়। কারণ, এবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বাড়ানো।

 

ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে গতকাল নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘এ আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকেই বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো।’ অভিবাসন কমানোর পক্ষে কাজ করা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ ২০২০ সালের একটি বিশ্লেষণে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মাঝের এক বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ (৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন) শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যাঁদের ‘এলিয়েন এনিমি’ (শত্রু দেশের নাগরিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও নির্বাহী আদেশ দুটিতে সীমিত করা হয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১০

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১২

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৩

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৪

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৭

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৮

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

১৯

নবীনদের বরণ, গ্র্যাজুয়েটদের বিদায়: ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএ’র যাত্রা শুরু

২০