যুক্তরাষ্ট্রে কঠোরতর অভিবাসন নীতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারিত ট্রাভেল ব্যানের প্রভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়েছেন নতুন অনিশ্চয়তায়| বিশেষ করে পড়াশোনা-পরবর্তী কাজের সুযোগ হিসেবে পরিচিত ঙঢ়ঃরড়হধষ চৎধপঃরপধষ ঞৎধরহরহম (ঙচঞ) প্রোগ্রামকে ঘিরে ˆতরি হয়েছে জটিলতা, যা হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে|
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাভেল ব্যানের আওতায় প্রায় ৩৯টি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের ওপর ভিসা ও ভ্রমণ সংক্রান্ত অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে| এর প্রভাব পড়েছে ট.ঝ. ঈরঃরুবহংযরঢ় ধহফ ওসসরমৎধঃরড়হ ঝবৎারপবং (ইউএসসিআইএস)-এর কার্যক্রমেও| সংস্থাটি অনেক ওপিটি আবেদন স্থগিত রেখেছে কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় রাখছে|
ফলে এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিলেও সময়মতো অনুমোদন পাচ্ছেন না| অনেক ক্ষেত্রে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আবেদন ঝুলে থাকায় শিক্ষার্থীরা চাকরির সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন| নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে না পারলে তাদের ভিসা স্ট্যাটাসও জটিল হয়ে উঠতে পারে|
এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন| বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে আদালত ইউএসসিআইএসকে দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন| বিচারকদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কোনো আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা আইনসম্মত নয় এবং এটি প্রশাসনিক সচ্ছতার পরিপন্থী|
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপিটি প্রক্রিয়ায় এ ধরনের বিল¤^ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে| এটি শুধু ব্যক্তিগত কর্মজীবনই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকেও দুর্বল করতে পারে| কারণ, ওপিটি প্রোগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে|
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদালতের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে নীতিগত পরিবর্তনের পথ ˆতরি করতে পারে| তবে বর্তমান বাস্তবতায় ট্রাভেল ব্যান ও অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ˆতরি করেছে|
মন্তব্য করুন