তাহমীদ ইশাদ রিপন, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ড্রোন হামলায় নিহত: ভাইদের সাথে শেষ যে কথা বলেছিলেন বড়লেখার সালেহ

রাত ১০টার দিকে ভাইদের সাথে কথা বলবেন জানিয়েছিলেন সালেহ। ভাইদের সাথে সে কথা কখনো আর আর বলা্ হবে না বড়লেখার সালেহ আহমদের। ভাইদের সাথে কথা বলার আগেই দুবাইয়ে ইরানের বোমা হামলায় বড়লেখার সালেহ আহমদ নিহত হয়েছেন।

 

 

 

৩৫ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সালেহ আহমদ। দেশে এই নামেই তিনি পরিচিত। তবে প্রবাসে তাঁর নাম আহমদ আলী। গত বছর শেষবার দেশে এসেছিলেন। চার মাস আগে আবার দুবাইয়ে ফিরে যান। তাঁর আর কখনোই জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরা হবে না।

 

 

 

শনিবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর ব্যাপারে প্রথম খবর পান। তবে পরে কফিলের (দুবাইয়ে স্থানীয় চাকরিদাতা) মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। হামলার পর দুবাইয়ের সেনাবাহিনী তাঁকে হাসপাতালে নেয়, সেখানে তাঁর মরদেহ রাখা আছে। ঘটনার আগে তিনি ভাইদের কাছে একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ভাইদের মুঠোফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে বলেছিলেন, রাত ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে আলাপ করবেন। কিন্তু তার আগেই বোমা হামলায় তিনি মারা যান।

 

 

 

সালেহ আহমদের বাড়ি বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইফতারের পর কোনো এক সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে আঘাত করলে তিনি মারা যান। তিনি দুবাইয়ের আজমান শহরে পানির ট্যাংকার চালাতেন। হামলার সময় তিনি পানি সরবরাহের জন্য গাড়ি নিয়ে পথে বের হয়েছিলেন। ওই শহরে তাঁর ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও থাকেন। তাঁরাই সালেহ আহমদের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানিয়েছেন।

 

 

 

সালেহর ছোট ভাই জাকির হোসেনের স্ত্রী শেলি বেগম গতকাল রোববার জানান, গত বছর তাঁর ভাশুর দেশে এসেছিলেন। প্রায় চার মাস আগে দুবাই ফিরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সবশেষ দেশে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরের দিন শনিবার রাতে তাঁরা তাঁর মৃত্যুসংবাদ পান।

 

 

 

শেলি বেগম বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে প্রথম তাঁরা খবর পান যে সালেহ আহমদ বোমা হামলায় মারা গেছেন। কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। আজমান শহরে থাকা সালেহর দুই ভাই সেখানকার হাসপাতালে যান। তবে তাঁরা ভাইকে দেখার সুযোগ পাননি। দুই ভাই পরিবারের সদস্যদের জানান, গাড়িতে বোমা হামলার পরপরই দুবাইয়ের সেনাবাহিনীর সদস্যরা সালেহকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁরা কফিলের মাধ্যমে সালেহ আহমদের মৃত্যুর বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন। তাঁর লাশ হাসপাতালে রাখা আছে।

 

 

 

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ সালেহ আহমদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে আছেন। তাঁরা সবাই দেশে থাকেন।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগানে বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি ইনক এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রিজার্ভ বনে সড়ক সংস্কার থামাল বন বিভাগ

ড্রোন হামলায় নিহত: ভাইদের সাথে শেষ যে কথা বলেছিলেন বড়লেখার সালেহ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, নাগরিকদের দ্রুত সরে যেতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে চীনের কাছে হার, লড়াইয়ে নজর কাড়ল বাংলাদেশ

ইরানে হামলার ঘটনায় সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে স্পেনের অস্বীকৃতি

মিশিগানে জালালাবাদ সোসাইটির ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন।

মিশিগানে মৌলভীবাজার এসোসিয়েশন অব মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

যুদ্ধে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, অনিশ্চয়তায় বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমা

হরমুজ প্রণালি অচল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব হবে মারাত্মক

১০

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় আমিরাতে বড়লেখার সালেখ উদ্দিনের মৃত্যু

১১

উপসাগরীয় অঞ্চলে আতঙ্ক, হামলায় চাপে নিরাপত্তা ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন শঙ্কা

১২

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ মিশিগান BAM এর ইফতার ডিনার অনুষ্ঠিত

১৩

ইরানে সামরিক অভিযান ‘আইনবহির্ভূত’, দাবি এডওয়ার্ড মার্কির

১৪

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে দুশ্চিন্তা

১৫

ফুটবলে বড় পরিবর্তন, বিশ্বকাপ থেকেই চালু নতুন নিয়ম

১৬

বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার সরকারি ভূমি জবর-দখলের অভিযোগ

১৭

ইরানে হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

১৮

এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক বিতর্ক, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান সরে দাঁড়ালেন

১৯

মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিতর্ক, মুসলিম নারী সদস্যদের দেশ ছাড়ার দাবি ট্রাম্পের

২০