আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে তার একটি পূর্বাভাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তার এই পূর্বাভাস সুখকর নয় বরং উদ্বেগজনক। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের মতো পশ্চিম এশিয়ার সামরিক উত্তেজনা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অস্থিতিশীলতা, গাজা সংঘাত, সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আগামীর বিশ্বকে থমথমে দেখছেন ভারতের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) জয়শঙ্কর দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এসব পূর্বাভাস দেন।
তবে এই ধরনের বিশ্ব পরিস্থিতি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে বলে তিনি মতামত ব্যক্তি করেন। তিনি বলেন, সবাই নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন। অথচ বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসবেন।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমি একজন আশাবাদী মানুষ এবং সমস্যার পরিবর্তে সমস্যার সমাধান নিয়ে বেশি চিন্তা করি। তবে আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলবো যে, আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি; যা আগে কখনও ছিল না।’ এসময় তিনি আগামীর পৃথিবী নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছর আমার চোখে ভয়াবহ। আপনি দেখুন মধ্যপ্রাচ্যে, ইউক্রেনে, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ায় কী ঘটছে। এছাড়া কোভিডের অব্যাহত প্রভাব তো আছেই। যা থেকে আমরা অনেকেই বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু অনেকেই এর থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি।’
জয়শঙ্কর আরো বলেন, এছাড়া সোমবার (১২ আগস্ট) মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা ইরানকে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে বলেছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বিশ্বব্যাপী সামরিক সংঘাতের হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাতের প্রভাবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। যেমনিভাবে গত বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আপনি বিশ্বে যে ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো দেখতে পাচ্ছেন তা হলো, অনেক দেশ এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কঠিন হয়ে উঠছে, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি রয়েছে। সুতরাং বিভিন্ন ধরনের বাধা আছে তা আপনিও জানেন।’ এছাড়া লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন এই বর্ষীয়ান মন্ত্রী। এ সময় তিনি মার্কিন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাননি।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা অন্য দেশের নির্বাচনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ তাদের রায় দেবে। গত ২০ বছরের ওপর ভিত্তি করে, আমাদের আস্থা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন আমরা তার সঙ্গে কাজ করতে পারবো বলে আশা রাখছি।’
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন