বাঙালির রসনা বিলাসে মদিনা ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট

প্রাচীনকালে রন্ধন শৈলীকে চৌষট্টি কলার অন্যতম একটি কলা বলে গণ্য করা হতো। বস্তুত রন্ধন শিল্প এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুকুমার কলা। রন্ধন শিল্পের শিল্পীরা প্রতিনিয়ত নিজের শিল্পচর্চায় নতুনত্ব সৃষ্টিতে মগ্ন থাকেন। আদিম যুগে মানুষ সব খাদ্য কাঁচা খেতে অভ্যস্ত ছিল। আমিষ নিরামিষ সবই কাঁচা খেত। যেই আগুন আবিষ্কৃত হল অমনি কাঁচা ছেড়ে পুড়িয়ে খেতে শুরু করল। ক্রমশ মানুষের রুচি বদলাতে লাগল। কাঁচা খাওয়ার বদলে রান্না করে খাওয়ার রীতি শুরু হল এবং সেইসময় হতে রান্নার প্রক্রিয়া নিয়ে নানামুখি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়ে এখনও তা চলছে। রন্ধন শিল্পীদের প্রচেষ্টায় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা রকমের স্বাদ। একেক দেশে একেক রকমের রন্ধন প্রক্রিয়া তৈরি হওয়াতে মানুষজন দুনিয়ার যে দেশে যায় সেই দেশে গিয়ে তাঁর চিরচেনা রান্নার স্বাদ খুঁজে বেড়ায়। মিশিগানে সেই চিরচেনা রান্নার স্বাদ বাঙালি-ভারতীয় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মদিনা ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট।

বিদেশ বিভুঁইয়ে রসনা বিলাসী বাঙালির মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে মদিনা ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট। বাঙালি-ভারতীয় খাবারের জন্য প্রসিদ্ধ এই রেস্টুরেন্টটি মিশিগানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন রেসিপি সংযোজনের মধ্যদিয়ে সৃষ্টি করছে ভোজনরসিকদের আকর্ষণ। ১০০% হালাল খাদ্যের সমাহারে রয়েছে পছন্দের প্রায় সকল কিছুই। তাই লোকে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে মদিনা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট নাম।

ছবিতে বা থেকে রুম্মান চৌধুরী, তাজুল ইসলাম, আবদুল মালেক।

মিশিগানে অনেক রেস্টুরেন্টের ভিড়ে আমরা আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি তাই আমাদের প্রতি মানুষজনের আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের একটাই লক্ষ্য কাস্টমারের সন্তুষ্টি। বাংলাদেশি এবং ভারতীয় বিভিন্ন খাবারের স্বাদ পরিপূর্ণভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করি। আমরা মনে করি সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করলে সফলতা সেখানে অনিবার্য তাই আমরা সততা ও নিষ্ঠায় অবিচল থাকতে চাই।

তিনজন বাংলাদেশি স্বপ্নবাজ যুবকের সম্মিলিত প্রয়াসে গড়া মদিনা ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট ইতিমধ্যে মিশিগানে রাজ্যে সবার নজর কেড়েছে। এ স্বপ্নযাত্রার শুরু ২০২০ সালে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ৩৩৩২৩ হারপার রোড, সেন্ট ক্লিয়ার শোর সিটিতে মদিনা ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট টেইক আউট হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্পদিনে সাফল্যের পথ পরিক্রমায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের হ্যামট্রামিক সিটির বাংলাদেশ এভিনিউতে (১১৯১৭ কনান্ট) উদ্বোধন হলো বাংলাদেশি মালিকানাধীন মদিনা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় শাখা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফিতা কেটে রেষ্টুরেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আমির বদর গালিব, মদিনা ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রুম্মান আহমদ চৌধুরী (ইভান), তাজুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল মালেক। সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলম্যান নাঈম লিওন চৌধুরী, কাউন্সিলম্যান খলিল আল রেফাই, কাউন্সিলওমেন এমেন্ডা জেকোয়াস্কি, কাউন্সিলম্যান এড্যাম আল বার মাকি, কাউন্সিলম্যান মো. আলসুমারি সহ কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মানসম্মত খাবার পরিবেশনের মধ্যদিয়ে সুনাম কুড়ানো মদিনা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের দুটি শাখায় চালু রয়েছে অনলাইনে খাবার অর্ডারের সুবিধা। হ্যামট্রামিকে অবস্থিত শাখায় ডাইনিং সহ ১০০ জন ধারণকৃত একটি হলরুম রয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে ক্রেতাদের পরিবেশন করছে চিকেন, তান্দুরি, স্যুপ সালাদ, বিরিয়ানি, ভেজিটেরিয়ান, সী ফুড, ইন্দো-চাইনিজ স্পেশাল মেন্যু এবং বাংলাদেশি-ভারতীয় খাবার। রয়েছে দেশি জিলাপি। এছাড়াও রেস্তোরাঁয় থাকছে ছোট-বড় সব ধরনের পার্টির আয়োজন। বিয়ে অ্যানিভার্সারি, ওয়ালিমা, জন্মদিন, গ্রাজুয়েশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যুফে ক্যাটারিং সার্ভিস দিয়ে থাকে মদিনা ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট। ঘরোয়া পরিবেশে সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে ব্যাঙ্কুয়েট হল। রেষ্টুরেন্ট বিভিন্ন সেবার মান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রেস্টুরেন্টের অন্যতম স্বত্বাধিকারী রুম্মান আহমদ চৌধুরী ইভান বলেন, ‘‘ মিশিগানে অনেক রেস্টুরেন্টের ভিড়ে আমরা আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি তাই আমাদের প্রতি মানুষজনের আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের একটাই লক্ষ্য কাস্টমারের সন্তুষ্টি। বাংলাদেশি এবং ভারতীয় বিভিন্ন খাবারের স্বাদ পরিপূর্ণভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করি। আমরা মনে করি সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করলে সফলতা সেখানে অনিবার্য তাই আমরা সততা ও নিষ্ঠায় অবিচল থাকতে চাই।’’

মদিনা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট মিশিগানের হ্যামট্রামিক শাখা সকাল ১১:৩০ টা থেকে রাত ১২:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
মিশিগানের সেন্ট ক্লিয়ার শোর সিটির হারপার রোডে অবস্থিত শাখা প্রতিদিন সকাল ১১:৩০ টা থেকে রাত ৯:৩০ টা পর্যন্ত গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে। যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন এই ৩১৩-৭৩৩-৬৬২৬ নাম্বারে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *