বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১৩ অগাস্ট ২০২৫, ৫:৩০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মিশিগানে সাশ্রয়ী আবাসন ঘাটতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ

ডেট্রয়েট ও এর শহরতলিতে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের অভাব এখন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। শুধু ডেট্রয়েট শহরেই নয়, এই সংকট ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের ম্যাকম্ব, ওকল্যান্ড এবং ওয়েইন কাউন্টিতেও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাউন্টিগুলো নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণে উৎসাহিত করতে তহবিল গঠন, বাসস্থান চাহিদা মূল্যায়ন এবং প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান।

 

 

 

ম্যাকম্ব কাউন্টি এ বছর প্রথমবারের মতো ‘কমিউনিটি ও হাউজিং নিডস অ্যাসেসমেন্ট’ পরিচালনা করছে, যাতে স্থানীয় পৌরসভাগুলো তাদের এলাকাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি সম্প্রদায়ে অংশগ্রহণমূলক সভা এবং বাসিন্দাদের নিয়ে জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে ওয়েইন কাউন্টি বর্তমানে সাশ্রয়ী বহু-পরিবারের আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করছে।

 

 

 

ওকল্যান্ড কাউন্টি ২০২৩ সালে একটি আবাসন ট্রাস্ট ফান্ড চালু করেছে, যা কর্মশক্তি ও মিশ্র-আয়ের আবাসন প্রকল্পে ডেভেলপার ও অলাভজনকদের জন্য “গ্যাপ ফাইন্যান্সিং” সহায়তা দিচ্ছে। কাউন্টির কর্মকর্তা খাদিজা ওয়াকার-ফবস জানান, “প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায়শই কয়েক মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি থাকে, যা এই তহবিল পূরণ করে। এটি সাশ্রয়ী আবাসন উন্নয়নে অন্যদের জন্যও একটি মডেল হতে পারে।”

 

 

 

দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগান কাউন্সিল অফ গভর্নমেন্টস (SEMCOG)-এর কর্মকর্তা নাহিদ হক জানান, সমস্যার প্রধান কারণ হচ্ছে উচ্চ আবাসন ব্যয় এবং সরবরাহের ঘাটতি। তাঁর ভাষায়, “অনেকেই নিম্ন আয়ের না হলেও ভাড়া বা বাড়ির কিস্তি মেটাতে চাপে রয়েছেন।” SEMCOG-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ম্যাকম্ব কাউন্টিতে ৪৬.৭%, ওকল্যান্ডে ৪৬.৮% এবং ওয়েইন কাউন্টিতে ৪৯.২% ভাড়াটে তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি আবাসনে ব্যয় করেছেন, যা সুপারিশকৃত সীমার ওপরে।

 

 

 

সম্প্রতি ম্যাকম্ব কাউন্টির ইস্টপয়েন্টে খালি জমিতে নির্মিত আটটি নতুন ভাড়া অ্যাপার্টমেন্ট উদ্বোধন করা হয়েছে, যা কাউন্টির পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগ এবং অলাভজনক কমিউনিটি হাউজিং নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত। তবে নতুন বহু-পরিবারের আবাসন প্রকল্প সব এলাকায় সমান স্বাগত পাচ্ছে না। এ বছরের শুরুতে রচেস্টার হিলসে ৩২ ইউনিটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প অনুমোদন পেলে কিছু বাসিন্দা ট্র্যাফিক ও অবকাঠামোগত চাপে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা জন মার্শ বলেন, “স্কুলের সময় ওরিয়ন রোডে ট্র্যাফিক একেবারেই অসহনীয়। নতুন প্রকল্পে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যা সমাধানে শুধু নতুন ইউনিট নির্মাণ নয়, বরং বিদ্যমান আবাসনের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়া সহায়তা কর্মসূচিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মিশিগানের এই সম্মিলিত উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে।

 

Source : http://detroitnews.com

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড বাণিজ্য, নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিযানে ১১ গ্রেপ্তার

তথ্য বিক্রিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন আইনি লড়াই

হোয়াইট হাউসে বড় রদবদল, প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন লেভিট

নিউইয়র্কে ২০২৭ থেকে মেডিকেইডে নতুন শর্ত, ঝুঁকিতে যেসব সুবিধাভোগী

মিনেসোটার পঞ্চম আসনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় জয় ইলহান ওমরের

সব বিষয়ে এ+; রোদেলার চোখে এখন সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন

মিশিগানে বাংলা সংবাদ কার্যালয়ে সৈয়দ উতবার সৌজন্য সাক্ষাৎ

আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে: ন্যান্সি মেস

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের নেতৃত্বে প্রথম সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড

অবশেষে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

১০

২৩৮ মিলিয়ন ডলার লোকসান গুনল ট্রাম্পের মিডিয়া কোম্পানি

১১

শিশুদের টিকা নীতিতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ

১২

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

১৩

মিশিগানে বাংলা প্রেস ক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ফ্যামিলি ডে উদযাপন

১৪

ইরানের হামলার আশঙ্কায় খাবারের কার্টে করে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

১৫

মিশিগানে ১৫ আগস্ট শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ফুলমুন ইসলামিক কালচারাল ফেস্টিভ্যাল

১৬

মিশিগানে আম-কাঁঠালি উৎসবে বাঙালির মিলনমেলা

১৭

মিশিগানে মুনার দাওয়াহ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত অংশ নেন হাজারো মানুষ

১৮

৬১% মার্কিনি চান সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়ুক নজরদারি

১৯

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

২০