বঙ্গবন্ধু পরিষদ মিশিগানের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামিক শহরের পুরাতন জালালাবাদ ভবনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মতিউর রহমান শিমু এবং সঞ্চলনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ফারিস।
সভায় প্রধান বক্তা বঙ্গবন্ধু পরিষদ মিশিগানের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আহাদ আহমেদ বলেন, ১০ জানুয়ারি বাংলার ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন।এই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। আজকের এ ঘটনা ছিল বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাসের আরেক আশীর্বাদ এবং বিজয়গাঁথা। অন্ধকার হতে আলোয় যাত্রা।
১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পরই বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।এছাড়াও এই সময় ১৯৭১ সালের যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ কনসোলেন্ট সার্ভিস আয়োজন কারার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটন চারটি গঠনকে দায়ত্ব দিয়েছিলেন এর মধ্যে আমাদের সংগঠনও (বঙ্গবন্ধু পরিষদ মিশিগান) একটি আয়োজক সংগঠন ছিল। দুঃখের বিষয় মিশিগানের কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারীদের নেতিবাচক আচরণে বাংলাদেশ দূতাবাস ৪ দিনের সার্ভিসের মধ্যে ৩ দিন সার্ভিস দিয়েই চলে যান।এই ক্ষতিটা কার হলো? মিশিগানবাসীর‘ই।
তিনি বলেন, একটি কুচক্রি মহল আমাদের কয়েকজনের নাম ধরে ধরে মিথ্যা অপবাদ করে চলেছে। আমরা সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম এবং সাংবাদিকদের ও বলেছিলাম আসল সত্যতা বের করে আনার জন্য। তারা কোন সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি।
আমি আজকের এই সভায় তাদের উদ্দেশ্যে আবার ও চ্যালেঞ্জ করলাম, যারা অপবাদ দিচ্ছেন আপনারা আপনাদের কথা প্রমাণ করুন । আপনাদের মিথ্যা অপবাদ এবং বদনাম যদি সত্য প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি আপনাদের পুরস্কৃত করব। আর যদি প্রমাণ না করতে পারেন প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
মিশিগানের কিছু দুর্নীতিবাজ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের বিল্ডিং, জায়গা, একাউন্টের সব টাকা আত্মসাৎ করে অ্যাসোসিয়েশনকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
পরে ২০০৭ সালে আমরা আবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনকে পুনর্গঠন করে ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কনসোলেন্ট সার্ভিসের আয়োজন করি।
২০১৬ এই কনসোলেন্ট সার্ভিস আয়োজন করা হয় সিটি অব ওয়ারেনে একটি রিয়েল এস্টেটের বিল্ডিংএ। এই সার্ভিসেও দূর্নীতির কারণে সরকারের উচ্চমহল থেকে সরকারী একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি একশন ও নেওয়া হয়। কিন্তু মূল দূর্নীতিবাজরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
তিনি বলেন, ত্রিরিশ বছর ধরে আমি এই কমিউনিটিতে আছি এবং বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত কোন ধরনের দূর্নীতি পাবেন না, যদি কোন ধরণের দূর্নীতি পেয়ে থাকেন তাহলে খুঁজে বের করেন কথা দিলাম পুরস্কৃত করব।
আহাদ আহমেদ বলেন, মিশিগানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের কথা ও কার্যক্রম শুনলে তাদের ই বদহজম হয়, যারা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন সম্পত্তি হজম করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন পুনর্গঠন করার পর ২০০৯ সালে গিস্মকালিন মেলার আয়োজন করি । তখন আমাদের সিনিয়র নেতাদের অনুরোধে কমিউনিটির ঐক্যের স্বার্থে আমরা আমাদের মেলা স্থগিত করে, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মেলা করার জন্য সম্মত হই।
কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে মেলা করতে গেলে আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হন। এবং বিষয়টি সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টি গোচরে আনলে তারা ছিলেন নিশ্চুপ।
এই মেলা স্থগিত করার জন্য আমাদের সংগঠনের নয় হাজার ডলার ক্ষতি হয়। আশাকরি আজকের এই সভার পর সিনিয়র নেতারা আমাদের এই ক্ষতির জবাব দিবেন।
এই সময় তিনি মিশিগানের দুই প্রেসক্লাব সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের অর্ধ মিলিয়ন সম্পত্তি দুর্নীতিবাজদের দখলে চলে গেল কিন্তু সাংবাদিক ও কমিউনিটির নেতা থাকা সত্বেও এর বিরুদ্ধে এক লাইনও লিখেননি কেন? অ্যাসোসিয়েশনের এতো সম্পত্তি টাকা দুর্নীতিবাজরা নিজেদের করে নিয়েছে কিন্তু এই বিষয় নিয়ে আপনাদের কলম চলেনি। আশা করি এর সঠিক জবাব দিবেন।
এছাড়াও সকল ধরনের ভানুমতির খেল বন্ধ করে দুর্নীতিবাজদের মুখোশ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বলেন তিনি।
এদিকে তিনি বলেন “বঙ্গবন্ধু পরিষদ মিশিগান” মিশিগানে একটি বঙ্গবন্ধু পাঠাগার করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মিশিগানে একটি স্থায়ী কনস্যুলেট অফিস স্থাপন করার জোর দাবি জানাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিশগান স্টেইট আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক আহমদ চান বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ উন্নত, গণমূখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হওয়ার পথে। ৫০ বছর পূর্বে জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছেন তা একে একে বাস্তবায়ন করে চলেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা বিশ্ব নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিশিগান স্টেইট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ মুছা বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন অপশক্তি আমাদের পরাস্ত করতে পারবে না। আমরা সফল হব, আমরা বিজয়ী হব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরকারি এমসি কলেজের(সিলেট) সাবেক ভিপি আব্দুল হানিফ কুটু বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতি আজ সবচেয়ে নিরাপদ, জাতি আজ নিরাপদে ঘুমাতে পারে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুমন কবির,জালালাবাদ সোসাইটি অব মিশিগান সভাপতি মোহাম্মদ এ হোসাইন সোলেমান,বিয়ানী বাজার সমিতির সভাপতি আজমল হোসেন,বিয়ানী বাজার সমিতির সহসভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা রুহেল আমিন,ষ্টেট অব মিশিগান ছাত্রলীগ সভাপতি আওলাদ হোসেন মামুন,ষ্টেট অব মিশিগান যুবলীগের উপ প্রচার সম্পাদক আবেদ মনসুর, মিশিগান যুবলীগ সদস্য ফাহিম আহমেদ,ষ্টেট অব মিশিগান এর প্রচার সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন আকবর হোসেন,মোহাম্মেদ জাহাঙ্গীর,মাসুদ আহমেদ,কাজল জাহাঙ্গীর,আব্দুল হাই ইসলাম,তানবির আহমেদ মোহাম্মদ,কাওছার,রাসেল আহমেদ তাজুল ইসলামসহ আরো অনেক।
মন্তব্য করুন