মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতিতে চালু থাকা ‘ভিসা বন্ড’ কর্মসূচিকে স্থায়ী নীতিতে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ জামানতের পরিমাণ ১৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত খসড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রায় এক বছরের মূল্যায়নে কর্মসূচিটি ভিসার শর্ত প্রতিপালনে কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় এটি আর পরীক্ষামূলক থাকছে না। সোমবার থেকে এটি স্থায়ীভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে ৩১ জুলাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন নীতির আওতায় আগের ৫ হাজার ডলারের সর্বনিম্ন জামানতের বিকল্প তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ১০ হাজার বা ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত নির্ধারণ করা হতে পারে। এর ফলে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক অনেক আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ এই কর্মসূচির নতুন কোনো সংযোজন নয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান এই নীতির আওতায় রয়েছে। ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা, অর্থাৎ বি১ ও বি২ ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য। নীতিমালা অনুযায়ী, ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অথবা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ দীর্ঘ সময়ের জন্য জামানত হিসেবে রাখার বিষয়টি অনেক আবেদনকারীর জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই ৫০টি দেশ থেকে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ জন ভ্রমণকারী ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। তবে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির প্রথম ১০ মাসে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ৫০-এরও নিচে নেমে এসেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। এই পরিসংখ্যানকে কর্মসূচির কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
একই সঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রাথমিকভাবে বছরে প্রায় দুই হাজার আবেদনকারী এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবে সেই সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছায়। এদের প্রায় অর্ধেকই শেষ পর্যন্ত জামানত দিতে রাজি হননি। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই নীতি বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক আবেদনকারীর জন্য ২০ হাজার ডলার জামানত রাখা বাস্তবসম্মত নয়, ফলে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাতিল করাই সহজ বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এই চূড়ান্ত নীতির ফলে বি১ ও বি২ ভিসার আবেদন আরও কমবে বলেই তাদের প্রত্যাশা। তাদের মতে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমানো এবং অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন শুধু ভিসা সাক্ষাৎকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নয়, উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক সক্ষমতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন