সম্প্রতি সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইসলামিক রিভোলোশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশে ইসলামিক রিপাবলিকের পা রাখা মোকাবেলা করার জন্য ইসরায়েল তার প্রচেষ্টা তীব্র থেকে তীব্রতর করছে ।
তাসনিম সংবাদ সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩১শে মার্চ দামেস্ক শহরলীতে ভোররাতে এক ‘অপরাধী হামলায়’ বাহিনীর একজন সামরিক উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
মিলাদ হায়দারি নামে আরেকজন আইআরজিসি অফিসারের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তার পদমর্যাদা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ইসরায়েল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা সচরাচর সিরিয়ায় হামলার খবরে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, মধ্যরাতের পরে ‘মিসাইলের স্প্রে’ নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েল যা দামেস্কের বাইরের জায়গায় গুলোতে আঘাত করেছে।
এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলায় কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও এতে হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক, সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়াতে এটাই ইসরায়েলের ষষ্ঠ বিমান হামলা হলো এই মাসে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল শতাদিক হামলা চালিয়েছে সিরিয়ায় ইরানি বাহিনী, সিরিয়ার সরকারি অবস্থান এবং মিত্র মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে। প্রায় কয়েক ডজন আইআরজিসির সদস্য নিহত হয়েছেন সিরিয়ায় দেশটির ১২ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় যেখানে তেহরান এবং মস্কো সমর্থন করছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে।
লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য ইরান-সমর্থিত দলগুলোর অবস্থান রাজধানীর চারপাশে এবং সিরিয়ার উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণে।
সিরিয়ায় গত ৩১শে মার্চের মধ্যরাতের আক্রমণ এক মাস ধরে ঘটে যাওয়া বিমান হামলার থেকেও তীব্র। গত ২২ শে মার্চ আলেপ্পোর বিমানবন্দরের কাছে একটি ইরানি অস্ত্রের ডিপোতে একটি ইসরায়েলি হামলা আঘাত করেছিল বলে জানা গেছে।
ইরান-সমর্থিত দলগুলি উত্তর-পূর্বে মার্কিন বাহিনীর হোস্টিংয়ের একটি ঘাঁটিতে সশস্ত্র ড্রোন চালু করে, একজন আমেরিকান ঠিকাদারকে হত্যা করে এবং অন্য একজনকে গুরুতর আহত করে সেইসাথে আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে, তারা পূর্ব সিরিয়ায় আইআরজিসি-এর সাথে সংযুক্ত স্থাপনায় বিমান হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে যে তাদের ছয় সেনা সদস্য মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়েছিল পাল্টা আক্রমণের সময়।
ইরানের রিভোলিউশনারি গার্ডস বা বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী মূলত অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি সশস্ত্র বাহিনী, যাদের দেশের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে।
সূত্র: ইরানওয়্যার
মন্তব্য করুন