জুলফিকার তাজুল, সিলেট
২৯ মে ২০২৫, ১:৩৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সংকট বাড়ছে ১৮৫ বছরের চা শিল্পে

১৮৫ বছরের পুরনো চা শিল্পে সংকট ক্রমশ বেড়েই চলেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ না পাওয়া, ব্যাংক লোনের সুদহার বৃদ্ধি, নিলাম ব্যবস্থার ফাঁদ সিন্ডিকেটসহ না কারণে এই সংকট ঘণীভূত হচ্ছে। এছাড়া, ভারত থেকে চোরাই পথে নিম্ন মানের চা আমদানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আর বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রায় অর্ধেক দামে চা বিক্রি করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামের চা শিল্পে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

 

জানা গেছে, এ বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য পূরণ নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। বর্তমানে প্রতি কেজি চা পাতা (কাঁচা পাতা) উৎপাদনে বাগান মালিকদের ২৪০ টাকা খরচ হলেও সেটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকরা লোকসানের মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় চা বাগান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো বাগান মালিক ব্যবসা গোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন!

 

এদিকে কিছু কিছু বাগান মালিক নিয়মিত শ্রমিকদের বেতনই পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। গত সপ্তাহে সিলেটে শ্রমিকদের বড় একটি বিক্ষোভে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং তারা সড়ক অবরোধ করে। সিলেটের কয়েকটি বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, লোকসানের মুখে পড়ায় সরকারের সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত নিলামে চায়ের কেজি সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। কিন্তু সেটি কার্যকর না হওয়ায় অধিকাংশ বাগান মালিকই অর্থ সংকটে পড়েছেন। ফলে তারা শ্রমিকদের বেতন ভাতা দিতে পারছেন না এবং বাগানে বাগানে শ্রমিক উত্তেজনার পরিবেশও সৃষ্টি হচ্ছে।
তারা জানান, ব্রিটিশ আমলের নিলাম ব্যবস্থার ফাঁদ সিন্ডিকেট, ভারতীয় নিম্নমানের চায়ের আগ্রাসন বাজারে চরমভাবে দেশীয় চা শিল্পকে চাপে ফেলেছে। এছাড়া, ব্যাংক ঋণের অভাব ও সরকারের নীরবতায় সিলেটে একের পর এক চা বাগান বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। বাজারে দখলদারিত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে। এতে করে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

 

এ নিয়ে সম্প্রতি সিলেটের ১৩টি বাগানের মালিক কর্তৃপক্ষ প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে তারা সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশে প্রথম চা চাষ শুরু হয়েছিল ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের পাইওনিয়ার বাগানে। তবে ১৮৫৪ সালে সিলেটে মালনীছড়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষের জন্য বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, বিশ্বে ৪৭টি দেশে চা উৎপাদিত হয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধ পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কার সতর্কবার্তা: আইএমএফ

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, সোস্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়

ভারতের আধিপত্যে প্রশ্নের মুখে বিশ্ব ক্রিকেট, মোস্তাফিজ ইস্যুতে সমালোচনা

কমলগঞ্জে দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ১৪৩৩ উদযাপিত হয়

বড়লেখায় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

নিউইয়র্কে বৈশাখী উৎসব: “ABCH পটলাক পান্তা ইলিশ”-এ প্রবাসীদের মিলনমেলা

কানাডার এমপি হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

হরমুজ প্রণালি অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে না ন্যাটো

যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে নিজের তুলনা টানলেন ট্রাম্প

কমলগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার: ৩ টি সড়ক ও ১টি খাল খনন কাজের উদ্বোধন

১০

গেম খেলার দক্ষতাই চাকরি! বিমান নিয়ন্ত্রণে নতুন ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের

১১

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাহেনা বেগম

১২

জাহাজ চলাচলে নতুন বিধি, হরমুজ ঘিরে ট্রাম্পের ঘোষণা

১৩

নাগরিকত্ব নীতিতে কড়াকড়ি, জন্মসূত্রের সুবিধা বন্ধে ট্রাম্প

১৪

মার্কিন–ইরান বৈঠক পৌঁছেছে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে

১৫

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: আলোচনায় পাঁচ বড় প্রশ্ন

১৬

কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে- নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি

১৭

কমলা হ্যারিস কি নামছেন ২০২৮ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে

১৮

আইপিএলের মাঝে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা রশিদ খানের

১৯

মিত্রদের দায়-দায়িত্ব নিয়ে ন্যাটো প্রধানের সামনে ট্রাম্পের বার্তা

২০