যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন ব্যবস্থার সুরক্ষা ও ভোটার তালিকা যাচাইকরণে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া এবং ভোটার তালিকায় ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে টেক্সাস থেকে এক ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ৭ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জনই যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী (Lawful Permanent Residents)
নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI) যৌথ অভিযানের পর এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও অ-নাগরিকদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভুয়া তথ্যে ভোটদানের অভিযোগ
মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারী বা সাময়িক ভিসায় থাকা বিদেশি নাগরিকরা দেশটির জাতীয় নির্বাচনে (যেমন: প্রেসিডেন্ট বা কংগ্রেস নির্বাচন) ভোট দিতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় ফরম-এ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা দাবি করেছিলেন। এরপর তাঁরা ২০১৮, ২০২০ কিংবা ২০২৪ সালের মার্কিন সাধারণ নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেন অথবা ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের অফিস থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
কারাদণ্ড ও ডিপোর্টেশনের ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্বাচনী অপরাধের জন্য অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সাথে আইন ভঙ্গের কারণে তাঁদের গ্রিন কার্ড বা আইনি স্ট্যাটাস বাতিল করে সরাসরি নিজ দেশে ফেরত (Deportation) পাঠানো হতে পারে।
টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এক বিবৃতিতে বলেন, “আমেরিকান নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনো স্থান নেই। টেক্সাসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচন ব্যবস্থার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের এই অভিযান আরও জোরদার করেছে।
মন্তব্য করুন