মিশিগানে মাসজিদ আল ফালাহ ও আল কোরআন একাডেমির আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে আই.সি.এন.ডি ফেস্টিভ্যাল। ইসলামিক কৃষ্টি ও কালচারকে প্রাধান্য দিয়ে শিশু বিনোদনের ৩য় এই আয়োজন অভিভাবকসহ সচেতন মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।
রোববার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ফেস্টিভ্যালটি শেষ হয় রাত ৯টায়। প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের সন্তানদের নিয়ে দিনভর অনাঢ়ম্বর এই অনুষ্ঠানে নানা রকম বিনোদন উপভোগ করেন।
আইসিএনডি’র ২টি পার্কিং স্পেসকে ঘিরে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালটি সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিলো। শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিলো Train Rides, Pony Rides, Petting Zoo, Bounce Houses, Cotton Candy, Balloons সহ নানা ইভেন্ট।
ফ্যাস্টিভ্যাল নিয়ে মাসজিদ আল ফালাহ ও আল কোরআন একাডেমির প্রিন্সিপাল আব্দুল লতিফ আজম ’বাংলা সংবাদ’কে বলেন, আমাদের আশ পাশে প্রতি বছর বিভিন্ন সংগঠন কিংবা সংস্থা নানারকম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে থাকে। যেখানে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক মা-বোনেরা বাচ্চাদের নিয়ে যেতে পারেন না। আমরা এই ফেস্টিভ্যালে ইসলামিক এনভায়রনমেন্টে তাদেরকে সুস্থ বিনোদন দেয়ার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, এখানকার অনেক বাচ্চারা গরু, ছাগল, হাস-মুরগি, খরগোশ সরাসরি দেখেনি। আজকে এই ফেস্টিভ্যালে এসে তারা এগুলো সরাসরি দেখতে পাচ্ছে বলে ব্যাপক আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।
প্রিন্সিপাল আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের দ্বীন এবং দুনিয়া উভয় বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। এই ধরণের ফেস্টিভ্যাল শিশুদের মানষিক বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা পেলে আগামী বছর এই ফেস্টিভ্যাল অনেক বড় আকারে আয়োজন করার ইচ্ছে আছে।
মিডিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে একাডেমির প্রেসিডেন্ট কুরবান সানি চৌধুরী বলেন, আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাশাপাশি এই ফেস্টিভ্যালে অংশ নেয়া প্রত্যেকটি অর্গানাইজেশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রোগ্রামটিতে অংশ নিয়ে এর সফলতায় ভূমিকা রাখার জন্য।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫/২০ জন কুরআনে হাফিজ বের হয়েছেন উল্লেখ করে কুরবান সানি বলেন, আমরা কমিউনিটির সকলের প্রতি আহবান জানাই আপনাদের সন্তানকে এই রকম একটি সুন্দর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেবেন যাতে করে শিশুরা বড় হয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের পাশা পাশি মসজিদে ইমামতির যোগ্যতাও অর্জন করে।
ফেস্টিভ্যালে মোট ২২টি বিভিন্ন ধরণের স্টল ছিলো। তার মধ্যে মুসলিম উম্মা অব নর্থ আমেরিকা মিশিগানের স্টলগুলি সকলের দৃষ্টি কাড়ে। বিশেষ করে তাদের স্টলে কোরআন ও হাদিসের পাশাপাশি বিপুল পরিমান ইসলামি বইয়ের সংগ্রহ ছিলো চোখে পড়ার মতো।
অপরদিকে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ফেস্টুনে সজ্জিত আইসিএনডি’র আল কোরআন স্টলটি ফেস্টিভ্যালে আসা সকলের আকৃষ্ট করে। স্টলটিতে মর্নিং ইসলামিক স্কুল, ইভিনিং ইউকেন্ড ও ফুল টাইম স্কুলে ভর্তির বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উতৎসাহিত করা হয়। স্টলের পক্ষ থেকে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় নানা রকম গিফট সামগ্রী । পুরো কাজটি পরিচালনা করেন একাডিমির ভাইস প্রিন্সিপাল মাও. আতিকুর রহমানসহ শিক্ষকশিক্ষিকাবৃন্দ।
ফেস্টিভ্যালে অংশ নেয়া বিভিন্ন অর্গানাইজেশন এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করছেন। অনেকেই এমন আয়োজন আরো বড় পরিসরে বেশি সময় নিয়ে করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মন্তব্য করুন