যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবিত স্বামী বা স্ত্রী নিজস্ব আবেদনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ফর্ম আই-৩৬০ ব্যবহার করে আবেদন করতে হয়। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, বৈবাহিক সম্পর্ক, মৃত স্বামী বা স্ত্রীর মার্কিন নাগরিকত্ব এবং পুনর্বিবাহের বিষয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন।
প্রথমত, মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক, বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকের সন্তান হিসেবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি অথবা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হওয়া ব্যক্তি হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের সনদ কিংবা বৈধ মার্কিন পাসপোর্টের মতো নথির মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে মৃত মার্কিন নাগরিকের আইনগতভাবে বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রী হতে হবে। বৈধ বিবাহের প্রমাণ হিসেবে বিবাহের সনদ দিতে হয়। আবেদনকারীর আগে কোনো বিবাহ হয়ে থাকলে, সেটি আইনগতভাবে শেষ হয়েছে—এমন প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।
তৃতীয়ত, মৃত্যুর সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ থাকা যাবে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মৃত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে মৃত্যুর সময় আবেদনকারী আইনগতভাবে আলাদা থাকলে এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফর্ম আই-৩৬০-এ এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়।
চতুর্থত, আবেদনকারীকে পুনরায় বিয়ে করা যাবে না। মৃত স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর অন্য কাউকে বিয়ে করলে এই বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নষ্ট হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় পুনর্বিবাহ না করা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
পঞ্চমত, মৃত মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে ফর্ম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন করলে এই বিশেষ ব্যবস্থার সুবিধা নাও পাওয়া যেতে পারে।
ষষ্ঠত, বিয়েটি প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক হতে হবে এবং আবেদনকারীকে অভিবাসনের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিয়ে করা হয়েছিল বলে প্রমাণিত হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রযোজ্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু পরিস্থিতিতে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে আগে ফর্ম আই-১৩০ জমা দেওয়া হয়ে থাকলে এবং সেটি অনুমোদিত বা বিচারাধীন থাকলে, অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর ফর্ম আই-৩৬০ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে সব ক্ষেত্রে নতুন করে আই-৩৬০ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ ব্যবহার করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এ ধরনের বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর জন্য আই-৩৬০ অনুমোদিত হলে সাধারণত অভিবাসন ভিসা সরাসরি পাওয়া যায়। তবে উল্লিখিত শর্তগুলো পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অভিবাসন ইতিহাস, অপরাধমূলক রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ইতিহাসসহ অন্যান্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন