যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দিন দিন বাংলাদেশি কমিউনিটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে বাড়ছে দলাদলি, গালাগালি এবং নানারকমের বিভক্তি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে একে অপরকে ল্যাং মারার প্রধান দায়িত্বটি পালন করবে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলাদলির সর্বশেষ সংযোজন মিশিগানে কনস্যুলার সার্ভিস পন্ড হওয়া। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ বাংলাদেশীরা যারা পাসপোর্ট, নো ভিসা রিকোয়ার্ড সীল, ডুয়েল সিটিজেনশীপ এবং পাওয়ার অব এটর্নির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন এরকম ভ্রাম্যমাণ সার্ভিসের। সরকারি দলের নেতারা আয়োজক হিসেবে অন্যদের মতামতকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। অন্যদিকে অন্যান্য যারা একই দলভূক্ত হয়েও নেতৃত্বে না থাকায় নিজেকে ফোকাসে নিয়ে আসতে পারছেন না তারা মরিয়া হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশের চেষ্টা করেন। উভয়ের উদ্দেশ্য কমিউনিটির কাছে নিজেদের সেবক হিসেবে জাহির করা। কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে এম্বেসির লোকজন মিশিগান থেকে ফেরত যাওয়ার পর উভয়পক্ষের প্রেস কনফারেন্স শুনে
আমরা সবাই বড় হয়েছি অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে। যুক্তির চেয়ে গালাগালিই বেশি পছন্দ, ভিন্নমত শোনার ধৈর্য্য নেই, ক্ষেত্রবিশেষে কিলাকিলি ও লাথালাথির মাধ্যমে ভিন্নমতের বা প্রতিপক্ষের উপর নিজের বিজয় সুনিশ্চিত করতে আমরা অধিক পছন্দ করি।
আপাত দৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। হতে পারে তাদের মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে যা তারা কথাবার্তায় এবং কাজে প্রকাশ করতে পারেননি অথবা আমাদের মতো শ্রোতারা সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। কমিউনিটি বেইজ সংগঠনগুলো আসলে কমিউনিটির লোকজনের মধ্যে পারস্পারিক সম্প্রীতি এবং সাহায্য সহযোগিতার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়ে থাকে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে শুরু হয়ে যায় কে কার চেয়ে ক্ষমতাবান সেই প্রতিযোগিতা। এক সময় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও আমিত্বের কাছে সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য পেছনে পড়ে যায়। যিনি পদধারী হন তিনি ভাবেন “আমি’ই নেতা! আবার যিনি পদবঞ্চিত হন তিনিও ভাবেন “আমি উনার চেয়ে কম কিসে! এই “আমি” “আমি’র কাছে জিতে যায় সবার ইগো, হেরে যায় সংগঠন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এরকম অবস্থায় কমিউনিটির সাধারণ সদস্যদের কাছে মনে হয় এ ধরনের সংগঠন-সমিতি থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
একজন ভালো নেতা সবসময়ই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। গণতন্ত্র শুধুমাত্র বেশিরভাগের মতামতে চলাই নয়, ক্ষুদ্রতম অংশেরও কথা শোনা, তাদের যৌক্তিক উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের সংস্কৃতিই গণতন্ত্র। আমরা সবাই বড় হয়েছি অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে। যুক্তির চেয়ে গালাগালিই বেশি পছন্দ, ভিন্নমত শোনার ধৈর্য্য নেই, ক্ষেত্রবিশেষে কিলাকিলি ও লাথালাথির মাধ্যমে ভিন্নমতের বা প্রতিপক্ষের উপর নিজের বিজয় সুনিশ্চিত করতে আমরা অধিক পছন্দ করি। অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং অনভিজ্ঞতার সমন্বয়ে মহাশক্তিশালী নেতাদের খপ্পরে যখন কোনো কমিউনিটি পড়ে তখন পারস্পারিক হিংসা, বিদ্বেষ এবং মারামারিই হয়ে যায় কমিউনিটির নিয়তি।
আমার বিশ্বাস, আমাদের কমিউনিটির নেতারা এমন নিম্বস্তরে যাবেন না। শুধুমাত্র নিজেদের ‘ইগো’ এবং ‘আমিত্ব’কে বিসর্জন দিয়ে উদারভাবে এগিয়ে এলে বর্তমান নেতাদেরও সক্ষমতা রয়েছে কমিউনিটির সেবা করার। আশা করি কমিউনিটির নেতারা নিজেদের যোগ্যতার প্রতি সুবিচার করবেন।
মন্তব্য করুন