জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দুই বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ধরনের বিদেশি সহায়তা হ্রাসের পর এই ঘোষণা এলো।
এই বছরে যুক্তরাষ্ট্র তার সহায়তা ব্যয় কমিয়েছে এবং জার্মানির মতো পশ্চিমা দাতারাও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দিকে ঝুঁকে সহায়তা কমিয়েছে—যার ফলে জাতিসংঘের জন্য তহবিল সংকট দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, মানবিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘকে দুই বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
অর্থ কিভাবে বরাদ্দ করা হবে বা অতিরিক্ত কোনো প্রতিশ্রুতি আসবে কি না—এ বিষয়ে আর বিস্তারিত জানানো হয়নি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মোট মানবিক সহায়তা প্রায় ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে—যা বৈশ্বিক মোটের প্রায় ১৪.৮ শতাংশ। আগের বছরে এই অঙ্ক ছিল ১৪.১ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১৭.২ বিলিয়ন ডলার।
ঝুঁকিতে থাকা ৮৭ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছতে ডিসেম্বরে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য ২৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আবেদন উত্থাপন করেছে, যা ২০২৫ সালের জন্য চাওয়া ৪৭ বিলিয়ন ডলারের অর্ধেক। রেকর্ড বৈশ্বিক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দাতা সহায়তার পতনই এর প্রতিফলন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, জাতিসংঘের মানবিক প্রতিক্রিয়া এখন টানাপড়েনে এবং অর্থায়ন ঘাটতিতে রয়েছে, যার অর্থ হলো সবচেয়ে প্রয়োজনীয়দের অগ্রাধিকার দিতে ‘করুণ সিদ্ধান্ত’ নিতে হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স