আবুল কাসেম
৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

এবার এগিয়ে যাওয়ার পালা আমাদের আস্থা নতুন প্রজনে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক
আন্দোলনের ধারায় নতুন প্রজন্ম আজ যে
ভূমিকা রাখছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
রাজনীতিতে মেধাবী নবীনদের অংশগ্রহণ
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সঠিক গন্তব্যে
এই বিশ্বাস রাখি।

 

চব্বিশের জুলাই মাসে ৩৬ দিনের সংগ্রাম
শেষে তারা যে স্বাধীনতার কথা বলছে-তা
নিয়ে সমাজে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি
হয়েছে। অনেকে ভাবছেন, জেনারেশন জেড
কি একাত্তরের মহান স্বাধীনতাকে খাটো
করছে? তাদের এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট- না,
নতুন প্রজন্মের স্বাধীনতার ধারণা কোনোভাবে
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে না।
বরং তারা যে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে,
তা জনগণের স্বাধীনতার পুনরুদ্ধার, যা রাষ্ট্রীয়
স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 

নতুন প্রজন্মের প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রথম দায়িত্বই ছিল একাত্তরের আত্মত্যাগকে
সম্মান জানানো। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বৃষ্টিভেজা শ্রদ্ধা
নিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে-মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা
তাদের নৈতিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংবিধানের
মূলভিত্তিই যেহেতু মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, সে
ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ছাড়া কোনো
সাংবিধানিক সরকারের পক্ষে অন্য কিছু ভাবার
সুযোগ নেই।

 

 

৫৩ বছরে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা অবিচল থাকলেও
জনগণের স্বাধীনতা বারবার হুমকির মুখে
পড়েছে। বিগত পৌনে ১৬ বছরে এই সংকট ছিল সবচেয়ে গভীর। ভোটাধিকারহীনতা,
নিপীড়ন, লুণ্ঠন ও পরিবারতন্ত্রের দাপটে
গণতন্ত্রের মূল্যবোধ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
বিরোধী দলগুলো যখন অসহায়, তখন মাঠে
নামে ছাত্রসমাজ। শাসকগোষ্ঠীর তাচ্ছিল্য,
অপমান, দমন-পীড়নের দেয়াল ভেদ করে তারা
আবারও প্রমাণ করেছে-নতুন প্রজন্মই এই
দেশের বিবেক।

 

১৯৫২, ১৯৬৯ ও ১৯৭১-এর মতোই ২০২৪
সালের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রসমাজের সাহসী
নেতৃত্বে গড়ে ওঠে জাতীয় ঐক্য। এই আন্দোলন
মানুষের মৌলিক অধিকার-কথা বলার অধিকার,
ভোটাধিকার, মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার-পুনরুদ্ধার
করেছে। তাই ৩৬ জুলাইয়ের বিজয়কে তারা যে
“স্বাধীনতা” বলছে, তা হলো জনগণের
স্বাধীনতার প্রতীক। এটি একাত্তরের স্বাধীনতার
বিকল্প নয়; বরং তারই পরিপূরক।

 

আজ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম শুধু দেশের
রাজনীতিতেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্র
আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের
প্রেরণায় আন্দোলন ছড়িয়েছে পাকিস্তান কিংবা
নেপালে। এই পরিবর্তন যদি দুর্নীতি, বৈষম্যহীন
সমাজ ও সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রূপ
নেয়-তবে জনগণের স্বাধীনতার পাশাপাশি
একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদের আত্মাও শান্তি
পাবে।

 

নতুন প্রজন্মের এই জাগরণ আমাদের আশ্বস্ত
করে। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ তার সঠিক
গন্তব্যে পৌঁছাবে নতুন প্রজন্মের হাতধরে। এবার
পথ হারানোর আর সুযোগ নেই।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন সংসদের জন্য ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের উদ্যোগে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত

ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করল স্পেন

ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে না ইরান

ওয়াশিংটনে টাইটানিক ধাঁচে ট্রাম্প–এপস্টেইন ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পরিবারের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষ জাতি গঠন সরকারের অগ্রাধিকার

রাজনীতি এখন সস্তা তামাশায় পরিণত হয়েছে ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিওর জবাবে ওবামা

ইতিহাসের সর্বোচ্চ করদাতা হওয়ার পথে মাস্ক জীবদ্দশায় দেবেন ৫০০ বিলিয়ন ডলার

এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে বেড়েছে পরিযায়ী ও জলচর পাখির সংখ্যা

১০

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন ডায়ানা মোরেনো বিজয়ী

১১

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

১২

১৩

ওয়াশিংটন ডিসি দূতাবাসে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

১৪

নিউইয়র্কের চার এলাকায় চালু হচ্ছে শিশুদের ফ্রি চাইল্ড কেয়ার

১৫

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বাণিজ্য চুক্তি

১৬

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সহায়তা নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু

১৭

ইরানে যুদ্ধে অনীহা, আপত্তি জানাচ্ছেন অনেক মার্কিন সেনা

১৮

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব: দেশে ডলারের দাম বেড়েছে

১৯

একুশে পদক পেলেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড দল

২০