ঝমকালো আয়োজনে মিশিগানের ওয়ারেনে ”বাংলাদেশি আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল ২০২৩” অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু’দিনব্যাপী এই মেলায় হাজার হাজার দর্শকের অংশগ্রহনে মিশিগান হয়ে উঠেছিলো একখণ্ড বাংলাদেশ।
মিশিগানস্থ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ মিশিগান (বাম)-এর আয়োজনে সিটি স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের শ্লোগান ছিলো ”জন্মভূমির স্পর্শ নতুন বাসভূমে”। হয়েছেও ঠিক তাই। হাজার হাজার দর্শক পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে জন্মভূমির স্পর্শই অনুভব করেছেন।
সিটি স্কোয়ারে আয়োজিত উৎসবটি স্থানীয় সময় ২২ জুলাই শনিবার বিকেলে শুরু হয়ে ২৩ জুলাই রাতে শেষ হয়। ১ম দিনের অনুষ্ঠান শুরুর আগ থেকেই দলে দলে অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কণ্ঠশিল্পী, মিউজিশিয়ান মুজার সুরের মূর্ছনায় তরুণ তরুণীদের মাঝে উন্মাদনার রেশ যেন বহুগুণে বেড়ে যায়। মঞ্চে মুজার একের পর এক পরিবেশনায় হাজার হাজার আমেরিকান বাংলাদেশি আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন। ‘নয়া দামান’‘বেনী খুলে’ কিংবা সময়ের আলোচিত মিউজিক ‘ঝুমকা’সহ নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে ওয়েস্টার্ন ঘরানার বেশ কয়েকটি গানে মঞ্চ মাতান তরুণ-তরুণীদের পছন্দের কণ্ঠশিল্পী মুজা।
দ্বিতীয় ও শেষ দিনের জমজমাট আসরে গান করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, প্রযোজক ফুয়াদ আল মুকতাদির ও তাঁর দল। এছাড়াও গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কালা মিয়া, হাসিব, আদনান, নাইক, তমাল, নাঈম এবং তাসফিসহ নর্থ আমেরিকার ১৪ জন সঙ্গীত শিল্পী । পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় জনপ্রিয় শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি অনন্য মাত্রায় নিয়ে যান মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্স ও সিনেটের আঞ্চলিক পরিচালক জেনিফার সুইফট। তাদের পক্ষ থেকে বিশেষ সিনেটরিয়াল স্বীকৃতির একটি প্রশংসাপত্র আয়োজকদের হাতে তুলে দেয়া হয়। স্বীকৃতি সেই সময়টা এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে গেঁথে থাকবে বাঙালীর হৃদয়ে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ মিশিগান (বাম)-এর প্রেসিডেন্ট জাবেদ চৌধুরী বলেন, একজন সম্মানিত সিনেটর দ্বারা আমরা আমাদের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি। এই সার্টিফিকেট শুধু কাগজের টুকরো নয়; এটি বাংলাদেশি সম্প্রদায় এবং ইতিবাচক অঙ্গীকারের বৈধতার প্রতীক। সিনেটরের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা থাকলো। যারা সমর্থন করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। আমরা কাউন্সিলম্যান গ্যারি ওয়াটস এবং ওয়ারেন সিটির কাউন্সিলম্যান জোনাথন লাফার্টির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ওয়ারেন পুলিশ বিভাগ এবং ওয়ারেন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা বিভিন্ন স্টল দিয়ে এই আয়োজনকে স্বার্থক করে তুলেছেন।
সমর্থন এবং ভালবাসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে জাবেদ চৌধুরী বলেন, আসুন হাতে হাত রেখে একটি ভাল এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই ।
মন্তব্য করুন