মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাগরিকদের নগদ অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত ২৫ জুলাই হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা জানান। তাঁর প্রশাসন শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ‘রিবেট’ হিসেবে ফেরত দেওয়ার চিন্তা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের এত টাকা আসছে যে আমরা সত্যিই ভাবছি, কিছুটা ফেরত দেওয়া যায় কি না।” তিনি আরও জানান, এই বিপুল আয় থেকে দেশের ঋণ পরিশোধ করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের নাগরিকদের জন্য ‘সামান্য রিবেট’ দেওয়া যেতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শুল্ক থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার বেশি। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির কারণেই এই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “ইইউর সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৫০, হয়তো তারও কম। তবে তারা চুক্তি করতে আগ্রহী। বর্তমানে তারা ৩০ শতাংশ হারে শুল্ক নিচ্ছে, যা কমাতে হতে পারে।” জাপানের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “জাপান এই চুক্তিতে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এবং আমাদের জন্য তাদের বাজারে অবাধ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
এছাড়া, ট্রাম্প ব্রিকস (BRICS) জোট সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, তারা মার্কিন ডলারকে দুর্বল করতে চাইছে। তবে তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখে দেওয়া হতে পারে। নগদ রিবেটের প্রস্তাব নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আকৃষ্ট করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশল, বাণিজ্যনীতি এবং নির্বাচনী প্রচারণার নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন