নিউইয়র্কে ভাড়া স্থগিতের দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন শত শত ভাড়াটিয়া। বৃহস্পতিবার, ৭ মে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের (আরজিবি) প্রাথমিক ভোটের আগে দুই মিলিয়নের বেশি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা এক ও দুই বছরের উভয় লিজের ক্ষেত্রেই ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের দাবি জানান। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে আরজিবির ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মূল্যস্ফীতি, সরকারি সুবিধা কমে যাওয়া এবং অভিবাসন অভিযানের মতো একাধিক সংকটের মধ্যে নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষ চরম চাপের মুখে রয়েছেন। এ অবস্থায় ভাড়া বৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দিনভর বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং চাপের মুখে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এক বছরের লিজের জন্য শূন্য থেকে ২ শতাংশ এবং দুই বছরের লিজের জন্য শূন্য থেকে ৪ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রাথমিক সীমা নির্ধারণ করে। এটিই প্রথমবার, যখন বোর্ড দুই বছরের লিজেও ভাড়া স্থগিতের সম্ভাবনা বিবেচনায় আনে। অন্যদিকে ভাড়াটিয়া প্রতিনিধিরা আরও এগিয়ে গিয়ে এক বছরের লিজে মাইনাস ৩ থেকে শূন্য শতাংশ এবং দুই বছরের লিজে মাইনাস ৪ দশমিক ৫ থেকে শূন্য শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা ভাড়া স্থগিতের দাবিতে সংগঠিত হচ্ছেন। প্রাথমিক ভোটের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, বাসাবাড়ির অব্যবস্থাপনা এবং বাড়িওয়ালাদের অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির দাবির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। অনেক বক্তা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ভাড়া বাড়লেও ভবনের মেরামত বা জীবনযাত্রার মানের কোনো উন্নতি হয়নি।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যরা বিক্ষোভ চলাকালে সমাবেশস্থলের নিরাপত্তায় রাস্তায় যান চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ রাখেন। এনওয়াইএস টেন্যান্ট ব্লকের পরিচালক সুমাথি কুমার বলেন, “ভাড়াটিয়ারা যখন সংগঠিত হন এবং রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করেন, তখন পরিবর্তন সম্ভব হয়। এক ও দুই বছরের উভয় লিজে ভাড়া স্থগিত এখন সাধারণ মানুষের দাবি।”
কাসা সংগঠনের নেতা ও রেন্ট ফ্রিজ ক্যাম্পেইনের সহ-চেয়ার জোয়ান গ্রেল বলেন, “গত বছরের ঐতিহাসিক উপস্থিতি দেখিয়েছিল, শ্রমজীবী মানুষ এক হলে কী সম্ভব। এবার আমরা আরও শক্তভাবে ফিরেছি।” ব্রুকলিনের বাসিন্দা ও মেট কাউন্সিল অন হাউজিং সদস্য ড্যারিল র্যান্ডাল বলেন, “আমি নির্দিষ্ট আয়ের ওপর বেঁচে আছি। প্রতিবার ভাড়া বাড়লে খাবার আর ভাড়ার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” চায়নাটাউনের সিএএএভি যুবনেতা শেলবি চেন বলেন, “অভিবাসী শ্রমজীবী মানুষের সবচেয়ে বড় মাসিক ব্যয় হলো ভাড়া। অথচ গত তিন বছরে বাড়িওয়ালাদের আয় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।”
প্রফেশনাল স্টাফ কংগ্রেসের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট জেন গ্যাবুরি বলেন, “সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী — সবারই এখন ভাড়া স্থগিত প্রয়োজন।” নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই বলেন, “গ্যাস, মুদি পণ্য এবং বীমার বাড়তি খরচে শ্রমজীবী মানুষ চাপে আছে। এখন ভাড়া বাড়লে হাজার হাজার পরিবার দারিদ্র্য ও ঋণের গভীরে চলে যাবে।” চূড়ান্ত ভোটের আগে ভাড়াটিয়া নেতারা নিউইয়র্কবাসীকে আরও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, আরজিবিকে এবার এক ও দুই বছরের উভয় লিজের ক্ষেত্রেই পূর্ণ ভাড়া স্থগিত ঘোষণা করতে হবে।
মন্তব্য করুন