যেসব বাবা-মা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া চাইল্ড সাপোর্ট পরিশোধ করেননি, তাদের হাজার হাজার মার্কিন পাসপোর্ট বাতিল করা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্র দপ্তর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানায়, শুক্রবার থেকে এই পাসপোর্ট বাতিল কার্যক্রম শুরু এবং প্রথমে তাদের লক্ষ্য করা হবে, যাদের বকেয়া চাইল্ড সাপোর্টের পরিমাণ এক লাখ ডলার বা তার বেশি। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (HHS) থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরে সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন পাসপোর্টধারী আক্রান্ত হবেন।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ১৯৯৬ সালের একটি খুব কম প্রয়োগ হওয়া আইনে নির্ধারিত ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি বকেয়া চাইল্ড সাপোর্ট থাকা অভিভাবকদেরও শিগগিরই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এ পরিকল্পনার খবর প্রথম ফেব্রুয়ারিতে এপি প্রকাশ করেছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঠিক কতজন পাসপোর্টধারীর ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি বকেয়া রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এখনও তথ্য সংগ্রহ করছে HHS। তবে কর্মকর্তাদের মতে, এতে আরও কয়েক হাজার মানুষ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
এ সপ্তাহ পর্যন্ত কেবল যারা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করতেন, তারাই এই শাস্তির আওতায় পড়তেন। কিন্তু নতুন নীতির আওতায় HHS ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি বকেয়া থাকা সব অভিভাবকের তথ্য পররাষ্ট্র দপ্তরকে দেবে এবং যাদের পাসপোর্ট রয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি। কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার বলেন, “আমরা এমন একটি বাস্তবসম্মত কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছি, যা বকেয়া চাইল্ড সাপোর্ট পরিশোধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিভাবক তাদের দেনা পরিশোধ করলে আবারও মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।”
১০ ফেব্রুয়ারি এপি এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের খবর প্রকাশ করার পর থেকে “শত শত অভিভাবক দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করেছেন” বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরটি আরও জানায়, “সব ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা না গেলেও, আমরা এই পদক্ষেপ নিচ্ছি যাতে এসব অভিভাবক তাদের সন্তান এবং মার্কিন আইনের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন।”
নীতি সম্প্রসারণের আগেও এই কর্মসূচিকে “অত্যন্ত কার্যকর একটি হাতিয়ার” বলে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তারা জানায়, ১৯৯৮ সালে কার্যক্রমটি পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য প্রায় ৬৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার বকেয়া আদায় করেছে। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরে ২৪ হাজারের বেশি এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি।
এই কর্মসূচির আওতায় যাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে তারা আর ওই নথি ব্যবহার করে ভ্রমণ করতে পারবেন না। বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। যদি কোনো পাসপোর্টধারী বিদেশে অবস্থানকালে তার পাসপোর্ট বাতিল হয়, তাহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার জন্য জরুরি ভ্রমণ নথি নিতে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যেতে হবে।
সূত্র: এপি
মন্তব্য করুন