যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৈরি হওয়া ভিসা ব্যাকলকের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগের প্রশাসনের কঠোর নীতিগুলো শিথিল করার চেষ্টা করলেও ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বাস্তব পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মার্কিন মিশন সীমিত সক্ষমতায় কাজ করছিল। এর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়ে এবং বহু আবেদনকারী দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন। ভিসা বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষে প্রায় ৫ লাখ অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় ছিলেন। অথচ এক মাসে মাত্র প্রায় ২২ হাজার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মহামারির আগের গড় সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।
এ ছাড়া প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের জন্য প্রাথমিক আবেদন জমা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সীমিত কার্যক্রমের কারণে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। অভিবাসন বিশ্লেষক ডেভিড বিয়ার বলেন, নীতিগত পরিবর্তনের চেয়ে বাস্তব প্রশাসনিক প্রক্রিয়াই এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, “নীতির পরিবর্তন হলেও মাঠপর্যায়ে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। ভিসা প্রক্রিয়ার ধীরগতি এখনো অভিবাসীদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
অভিবাসন অধিকারকর্মী ম্যাগান অ্যাসাহেব বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। এখন কয়েক মাসে এক বছরের কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” ২০২০ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে পরিবারভিত্তিক ভিসা ও ডাইভারসিটি ভিসা কার্যত স্থগিত করেন। একই বছরের জুনে অস্থায়ী কর্মী ভিসার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষক জর্জ লোরি্য বলেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পরিবারভিত্তিক অভিবাসন কমিয়ে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন বাড়ানো। তার ভাষায়, “এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।” অভিবাসন ব্যবস্থার একটি বিশেষ কাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কোনো বছরে পরিবারভিত্তিক ভিসা ব্যবহার না হলে তা পরের বছরে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার কোটায় যুক্ত হয়। ফলে ২০২০ সালে প্রায় ১ লাখ অব্যবহৃত পরিবারভিত্তিক ভিসা পরবর্তীতে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
এর ফলে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের আবেদনকারীরা আরও পিছিয়ে পড়ছেন বলে মত বিশ্লেষকদের। ডেভিড বিয়ার বলেন, “অনেকেই এখন অনিশ্চয়তায় আছেন, কখন তাদের সাক্ষাৎকার হবে, আদৌ হবে কিনা তা জানেন না।” এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু বিশেষজ্ঞ ভার্চুয়াল ভিসা সাক্ষাৎকার চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, বিশেষ করে পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে অনলাইন সাক্ষাৎকার চালু করলে জট কমতে পারে।
এ ছাড়া আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছেন বা কম ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার ছাড়াই ভিসা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আইন প্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অব্যবহৃত ভিসাগুলো বাতিল না হয়ে পরবর্তী বছরগুলোতে বহাল থাকে।
মন্তব্য করুন