ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের লক্ষ্য হলো ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় পৌঁছানো। আলোচনায় ইরান ১০ দফা প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।
আলোচনায় যে পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ধরা হচ্ছে—
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পারমাণবিক ও ইউরেনিয়াম কার্যক্রম বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আইএইএ’র কড়া নজরদারি চায়। অপরদিকে, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি ও সার্বভৌম অধিকার দাবি করছে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: ইরান সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।
হরমুজ প্রণালি: ইরান এ প্রণালিতে একক নিয়ন্ত্রণ ও ইরানি মুদ্রায় টোল আদায়ের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অবাধ ও নিরাপদ রাখতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব: ইরান মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস ও বাহিনী প্রত্যাহার চায়, পাশাপাশি অঞ্চলে অভিযান বন্ধের দাবি জানায়। যুক্তরাষ্ট্র আবার হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহায়তা বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ: সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের মিত্রদের ওপর ইরানের হামলার জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষের পথে থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, তাৎক্ষণিক বড় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আস্থা গড়ে উঠলে ধাপে ধাপে আলোচনা চলতে পারে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন