বাংলা সংবাদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আইস নিয়ে সমালোচনার জেরে টেক কোম্পানিগুলোর কাছে তথ্য চাইছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইস–এর সমালোচনা করে বা তাদের তৎপরতা অনুসরণ করে—এমন একাউন্টগুলোর পরিচয় জানতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে আইনি সমন পাঠাচ্ছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক মাসে দপ্তরটি গুগল, মেটা, রেডডিট ও ডিসকর্ডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে শত শত প্রশাসনিক সমন পাঠিয়েছে। এসব সমনে সংশ্লিষ্ট একাউন্টধারীদের নাম, ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ শনাক্তযোগ্য ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সরকারি কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সমনের জবাবে তথ্য সরবরাহ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে তারা জানিয়েছে, প্রতিটি অনুরোধ আইন অনুযায়ী যাচাই করা হয় এবং অনেক সময় ব্যবহারকারীদের আদালতে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতে ১০ থেকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়।

 

 

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর তাদের প্রশাসনিক সমন জারির “বিস্তৃত ক্ষমতা” থাকার কথা বলেছে। আদালতে সরকারি আইনজীবীদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কর্মরত আইস কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব তথ্য চাওয়া হচ্ছে। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠন এসিএলইউর মতে, প্রশাসনিক সমনের ব্যবহার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এতে পর্যাপ্ত জবাবদিহিতা নেই।

 

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রশাসনিক সমন জারির ক্ষেত্রে বিচারকের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হয় না—যা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। অতীতে মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে সীমিতভাবে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে বেনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসাব শনাক্তে এর ব্যবহার বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় আইস অভিযানের তথ্য প্রকাশকারী কিছু ইনস্টাগ্রাম একাউন্টের পরিচয় জানতে পাঠানো সমন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। একইভাবে পেনসিলভানিয়ার মন্টগোমারি কাউন্টিতে আইস তৎপরতা নিয়ে তথ্য দেওয়া একটি কমিউনিটি একাউন্টের বিরুদ্ধেও পাঠানো সমন পরবর্তীতে তুলে নেওয়া হয়।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি কোম্পানি ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে ব্যবহারকারীর তথ্য সরবরাহ নিয়ে টানাপোড়েন নতুন নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা দেশ থেকে ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়ার অনুরোধ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইইউর সঙ্গে পিসিএ চুক্তির প্রথম ধাপ সম্পন্ন বাংলাদেশের

ইন্টারনেট সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, বড়লেখা-জুড়ীতে উচ্ছ্বাস

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা

ভ্যান্স কি পাকিস্তান যাচ্ছেন? ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের বিপরীত দাবি

বন্দুক হামলায় কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণ হারাল ৮ শিশু

মিশিগানে ২৪ এপ্রিল CurryFy রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন পুরো মেনুতে ৫০ শতাংশ ছাড়

চা বাগানের ৪ হাজার ৬শ’ ৬৮ জন অসচ্ছল শ্রমিক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভাতা

প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির মিলনমেলা, মিশিগানে বসছে ‘USB বৈশাখী উৎসব’

‘ডনরো ডকট্রিন’ প্রয়োগে ২৬ প্রভাবশালীর মার্কিন ভিসা বাতিল

১০

কমলগঞ্জে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন করলেন এমপি মুজিবুর রহমান

১১

বড়লেখায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি, অতঃপর যা জানা গেল

১২

পোপের মন্তব্য: কয়েকজন স্বৈরশাসকের যুদ্ধেই বিপদে মানবসভ্যতা

১৩

পারমিট ছাড়া হজ পালন, সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা

১৪

বিবিসির বড় ছাঁটাই: ২ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন

১৫

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিতের প্রস্তাব ফের নাকচ মার্কিন সিনেটে

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাচ্ছে ‘রাক্ষস’, মিশিগানে নির্ধারিত শিডিউল ঘোষণা

১৭

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর অন্তর্ভুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৮

মৌলভীবাজারবাসীর দুই কমিটি ভেঙে ঐক্যের বার্তা, মিশিগানে গঠিত নতুন নেতৃত্ব

১৯

যুদ্ধ পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কার সতর্কবার্তা: আইএমএফ

২০