মে মাসের শেষ দিক থেকে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজা ইমিগ্রেশন কোর্ট যেন পরিণত হয়েছিল এক আতঙ্কিত বাস্তবতায়। প্রতিদিনের শুনানির শেষে পাঁচ থেকে পনের জনকে মুখোশধারী এজেন্টরা গ্রেফতার করতেন, এ যেন ছিল নিয়মিত চিত্র। কিন্তু হঠাৎ গত সোমবার পুরো দিনজুড়ে সেই দৃশ্যের অনুপস্থিতি সবাইকে বিস্মিত করে। নিয়মিত সেখানে উপস্থিত থাকা আইনজীবী অ্যালিসন কাটলারও হতভম্ব। তিনি বললেন, “আমি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এতটা নীরবতা অনেক সময় অশনি সংকেত বয়ে আনে।
মঙ্গলবারও কেবল চারজন গ্রেফতার হয়। বুধবার সকালে মুখোশধারী আইসিই এজেন্টরা আবার আদালতের হলওয়েতে হাজির হলেও সকাল ১১টার মধ্যে তারা অদৃশ্য হয়ে যায়। বৃহস্পতিবারও, যেদিন আইসিই সাধারণত সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার করে, সেই দিনও অস্বাভাবিকভাবে শান্ত থাকে। অবশ্য বিকেলে ৯ নম্বর তলার আইসিই মেইল রুমে সাদা পাউডার পাওয়ার কারণে ভবনটি খালি করতে হয়, এবং বিষয়টি এফবিআই এখনও তদন্ত করছে।
একটি বড় কারণ হলো আদালতের অভ্যন্তরে গ্রেফতারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সম্প্রতি দায়ের হওয়া মামলা। ফেডারেল বিচারক অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, যা ১০ তলার সেলের ধারণক্ষমতা সীমিত করেছে। ফলে আইসিই’এর কাছে গ্রেফতারকৃতদের অন্যত্র স্থানান্তরের বিকল্প বা দ্রুত স্থানান্তরের পথ খুঁজে নিতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অভিবাসীদের ভয়। অনেকেই শুনানিতে হাজির হতে দ্বিধা বোধ করছেন। মামাদু দ্রামে, যিনি স্বেচ্ছাসেবক ও প্যারালিগাল, বললেন, “তারা ফোন করে বলে, আমার শুনানির দিন আছে, কিন্তু আমি যাব না।” তবে আদালতে না আসার ঝুঁকি বড়—‘রিমুভাল ইন অ্যাবসেন্টিয়া’ আদেশে তাদের আশ্রয় দাবি বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং গ্রেফতার ও নির্বাসনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কোর্টের অভ্যন্তরে আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণও চিন্তার কারণ। সম্প্রতি বিচারক জন সিমিয়েতকোভস্কির কক্ষে ২৮ জনের মধ্যে ১১ জন উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে নয়জনকে ‘রিমুভাল ইন অ্যাবসেন্টিয়া’ আদেশে পাঠানো হয়। কিছু বিচারক ভার্চুয়াল উপস্থিতি অনুমোদন করছেন, তবে অনেকেই আইনজীবী থাকা অবস্থায়ই সেটি অনুমোদন দিচ্ছেন। আবার অন্য বিচারক সকলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন।
এনিয়ে ইতিহাসও স্পষ্ট। বাইডেন প্রশাসনের সময় আদালতগুলোতে অভিযান চালানো হতো না, কারণ এটি অভিবাসীদের হাজির হওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দেয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সেই নীতি বাতিল হয়। এরপর আইসিই প্রকাশ্যে এই কৌশল নেয়, আদালতের কাছে বা কাছাকাছি অভিযান চালানোর জন্য। নিউইয়র্ক সিটি এখন এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু।
কাটলার বলেন, “আদালত গ্রেফতার বন্ধ করে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসীরা কোর্টে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তি পাবে না। এই প্রভাব বছরের পর বছর ধরে দেখা যাবে।”নীরবতা এসেছে, তবে ভয় এখনও কাটেনি। কোর্টে হাজিরা কমছে, আইসিই-এর কৌশল চালু রয়েছে, আর বিচার প্রক্রিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য করুন