নিউ জার্সির নিউয়ার্কে অবস্থিত ফেডারেল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার ‘ডিলেনি হল’ থেকে চারজন বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাতকদের খোঁজে অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও ঠিক কোন সংস্থাগুলো এই তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। নিখোঁজ বন্দিদের পরিচয়ও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার সময় সেন্টারের বাইরে চলছিল একটি বিক্ষোভ, যেখানে আন্দোলনকারীরা হাত ধরাধরি করে ব্যারিকেডে চাপ সৃষ্টি করছিলেন এবং গাড়ি চলাচলের রাস্তায় বাধা দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং বিক্ষোভকারীদের ধাক্কা দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। নিউ জার্সি অ্যালায়েন্স ফর ইমিগ্রান্ট জাস্টিস-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যামি টরেস জানিয়েছেন, এই অভিযানে কিছু বিক্ষোভকারী হালকা আহত হন। তবে কেউ গাড়ির নিচে পড়েননি।
ঘটনার পেছনে বন্দিদের খাদ্যসংকটের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। মুস্তাফা চেতিন নামের এক আইনজীবী জানান, তার ক্লায়েন্টরা জানিয়েছেন যে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়মিতভাবে খাবার সরবরাহে দেরি হচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বন্দিরা এবং পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, বন্দিরা দুর্বল প্রাচীর ধাক্কা দিয়ে ভেঙে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
শুক্রবার ওই কেন্দ্রের বন্দিদের সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ বাতিল করা হয় এবং কাউকে ডিটেনশন সেন্টারে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একই দিন আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্দিরা প্রতিদিন মাত্র দুইবার খাবার পাচ্ছেন—সকাল ৬টায় নাশতা ও রাত ১০টায় রাতের খাবার। দিনভর তারা কোনো খাবার পান না। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ডিটেনশন সেন্টারটি চালু করা হয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়, অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে। এক বিলিয়ন ডলারের ১৫ বছরের একটি চুক্তির আওতায় এটি পরিচালনা করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপ। যারা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সবাইকে আইস-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।
ডিলেনি হল ইতিমধ্যেই স্থানীয় রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে। নিউয়ার্কের মেয়র রাস বরাকা গত ৯ মে ওই কেন্দ্রের বাইরে একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। কংগ্রেস সদস্য লা মোনিকা ম্যাকইভার-এর বিরুদ্ধেও ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মেয়র বরাকা পালানোর ঘটনার পর এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা চাই এই বিশৃঙ্খলার দ্রুত অবসান ঘটুক এবং যেন এ ধরনের অপারেশন আর অবাধে চলতে না পারে। আইসিই-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫৩ হাজারের বেশি অভিবাসী আটক ছিলেন। যা সংস্থাটির অনুমোদিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি এবং প্রায় সর্বোচ্চ সংখ্যার কাছাকাছি। ডিটেনশন সেন্টারের মধ্যে বিদ্যমান অমানবিক অবস্থা, খাদ্যসংকট ও নিরাপত্তার অভাব ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির মানবিকতা আসলে কতটুকু?
মন্তব্য করুন