ক্যারল হ্যাক
২৫ অক্টোবর ২০২৪, ১:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ডেট্রয়েটের উত্তর-পশ্চিমের বাসিন্দাদের জীবনধারা বদলে দিয়েছে ড. মায়া অ্যাঞ্জেলো ভিলেজ

ড. মায়া অ্যাঞ্জেলো ভিলেজ ডেট্রয়েটের উত্তর-পশ্চিমে বার্ট রোড এবং গ্রান্ড নদীর তীরে অবস্থিত। ৪৫ ইউনিটের ভবনটি শিকাগোভি- ত্তিক ডেভেলপার ফুল সার্কেল কমিউনিটিজ এবং ডেট্রয়েটের অল্টারনেটিভ্স ফর গার্লস-এর মধ্যকার একটি অংশীদারিত্বকে নির্দেশ করে। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে অসহায় তরুণীদের সেবা প্রদান করে আসছে।

 

অল্টারনেটিভ্স ফর গার্লস-এর চিফ অপারেটিং অফিসার ড. সেলিয়া এস ডি থমাস বলেন, ‘স্থায়ী আবাসন সহায়তা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের জন্য জায়গায় স্থানান্তর করা আমাদের মিশনের একটি ভিত্তি ছিল। এ সংগঠনটি দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েট ক্যাম্পাস থেকে একটি স্বাধীন সেতুবন্ধনের দিকে স্থায়ী পরিষেবা প্রদান করে। ইসরায়েল থেকে অভিবাসী হওয়া ইজি উইলিয়াম্স তার দুই বছর বয়সী ছেলে অ্যাটিকাসের সাথে ড. মায়া অ্যাঞ্জেলোর ভিলেজে তার প্রথম এপার্টমেন্টে চলে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং এজন্য তিনি ড. মায়া অ্যাঞ্জেলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের জন্য এটি ভালো। কারণ, এটি আমার পরিবারের খুব কাছে। আমি এখানেই বড় হয়েছি। এজন্য এই এলাকা আমার খুব পরিচিত। এ ভবনে আমরা নিরাপদবোধ করি। প্রথম যেদিন এ ভবনে প্রবেশ করি, অ্যাটিকাস এদিক-সেদিক এমনভাবে দৌড়াচ্ছিল যেন সে ইতোমধ্যে জানতে পেরেছে এটি তার নিজের বাড়ি। আমার শুরুটা আনন্দময় ছিল। আমার প্রতিবেশীরা খুব ভালো। এ ভবনে অনেক শিশু আছে। আমরা পারস্পরিক বন্ধুত্ব গড়ে তুলে খেলাধুলায় দিন কাটাতে পারবো।’

 

ড. মায়া অ্যাঞ্জেলো ভিলেজের যদিও প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ঝুঁকির মধ্যে থাকা নারী এবং তরুণ  পরিবারগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (এইচইউডি) এবং মিশিগান স্টেট হাউজিং ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (এমএসএইচডিএ) এর তহবিল একটি এবং দুটি বেডরুমের ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছিল। এটি নারী-পুরুষ বাসিন্দাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। এখান- কার ২৩টি ইউনিট সাপোর্টিভ আবাসন শ্রেণিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, যেখানে কেইস ম্যানেজারের সাথে নিয়মিত সাক্ষাৎ হয়। যাতে পরিকল্পনা এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করা যায়। এ ব্যাপারে ড. সেলিয়া থমাস বলেন, কেইস ম্যানেজমেন্ট এবং কম ভাড়ার সমন্বয় বাসিন্দাদের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি করার সুযোগ দেবে। এটি কর্মসংস্থান উন্নতকরণ কিংবা স্কুলে ফিরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আরো বেশি আয়ের সুযোগ দেবে। উইলিয়ামস পিতা-মাতার সেবার পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন এবং রান্নাশিল্পে দক্ষতা অর্জনের জন্য পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, ভাড়া আমার আয়ত্তের ওপর নির্ভর করে। যদি আমি বেশি টাকা উপার্জন শুরু করি, ভাড়া সমন্বয় হবে; কিন্তু আমার আয় ১০০% পর্যন্ত বাড়লেও তারা বলবে না ‘তোমাকে যেতে হবে।’ আমি এখানে থেকে নিজেকে উন্নত করার সুযোগ পাই।

 

এই বিষয়টি আমি খুব পছন্দ করি। ব্র্যান্ড ল্যারি সিমন্স ব্রাইটমোর কমিউনিটির একজন পাদ্রি এবং আইনজীবী। তিনি তার এলাকায় আবাসনের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করেন। তিনি হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (এইচইউডি)-কে খুব নিম্নমানের আয়ের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেন। ব্রাইটমোরে তিনজনের একটি পরিবারের গড় আয় ৮২৭,০০০। এত কম আয়ের পরিবারগুে লাকে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য সবসময়য় পরিধান করতে হয়। তারা প্রায়ই নিম্নমানের আবাসন সমস্যায় ভোগে। অ মায়া অ্যাঞ্জেলোর ভিলেজ তাদেরকে শিখায় যে, খুব বেশি আয় না থাকলেও যে কেউ মানসম্মত ভাড়ার বিকল্প হিসেবে বাসা পেতে পারেন। ড. সেলিয়া থমাস জানান, ব্রাইটমোরের উত্তর প্রান্তে কৌশলগত নির্বাচন ছিল ভবনা। এখানে বাস পরিবহন, চাকুরি, শিক্ষা এবং মিউনিটির বিভিন্ন সুযোগ কাছেই রয়েছে। এ প্রকল্পের সফলতা অনেকটাই একটি কমিউনিটির শক্তি এবং নতুন বাসি দের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জন্য ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। অনেক প্রতিবেশী তরুণ, নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রতি সহযোগিতা করবে যারা নিজেদের ভালো কিছু করতে আগ্রহী। এই অংশীদারিত্বের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। গির্জাগুলোও নতুন ধর্মপ্রাণদেরকে চান। এখান থেকে ব্যবস- াগুলোও কর্মী নিয়োগ করতে সুবিধা পায়। র্যান্ড প্যারি সিল অল্টারনেটিভস ফর গার্লসকে একটি ভালো প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

যারা চারপাশের গির্জা ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে সুবিধালাতের জন্য যোগাযোগ করেছে। তারা অংশীদার এবং প্রতিবেশী হিসেবে এসেছিল। আমি মনে করি তারা উল্লেখযোগ্য সম্পন্ন। যদিও   এপার্টমেন্টের সবাই ব্রাইটমোরের নাগরিক নাও হতে পারেন, একবার তারা এখানে এলে, তারা কমিউনিটির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কমিউনিটিও তাদেরকে এভাবে দেখছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, ড. মায়া অ্যাঞ্জেলোর গ্রাম নিয়ে আগ্রহ এবং কৌতূহল ব্লক ক্লাব ও প্রতিবেশীদের সভাগুলোতে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এখনকার বাসিন্দারা এর নানামাত্রিক সুবিধার ধরণ দেখতে পাচ্ছে।

 

ইজি উইলিয়ামস একসময় বাইর থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এখন তিনি নতুন বাড়ির ভেতরে শান্তি অনুভব করেন। তিনি বলেন, আমি এই এপার্টমেন্টগুলো নির্মাণ হতে দেখেছি। এটি আমার প্রথম এপার্টমেন্ট হওয়ার কারণে আমি খুব কৃতজ্ঞ এবং খুশি। এখানে নিরাপদ পরিবেশ বিরাজমান।’ রেসিলিয়েন্ট নেবারহুড একটি বিশেষ প্রতিবেদন এবং এনগেজমেন্ট সিরিজ। এটি ডেট্রয়েটের বাসিন্দা এবং কমিউনিটি উন্নয়ন সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্থানীয় প্রতিবেশগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করে। এটি কেসণে ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

 


Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাস্তার সৈনিক নয়, সীমান্তে গিয়ে জিয়ার সৈনিক প্রমাণ করুন- বড়লেখায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী

মিশিগানের ওয়ারেনে BAM-এর আয়োজনে টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত

মিশিগানে তিন দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য হ্যামটাউন সামার জ্যাম ফ্যাস্টিভাল সফল করা নিয়ে বিএমসিএফ এর প্রেস ব্রিফিং

ট্রাম্পের ছবি নিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্মারক পাসপোর্ট

আনন্দঘন আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো প্রাক্তন বাংলাদেশ মিশন সদস্যদের বার্ষিক মিলনমেলা

পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, চলছে উদ্ধার অভিযান

বাবা দিবস উদযাপন ও আকর্ষণীয় পুরস্কারে জমজমাট শিব মন্দিরের বার্ষিক বনভোজন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পদকে ভূষিত হচ্ছেন গবেষক-সাংবাদিক সেলিম আউয়াল

দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়

মিশিগানে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান উৎসব পালিত

১০

‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনে অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানকে স্বীকৃতি

১১

মিশিগানে হবিগঞ্জ সদর সমিতির অভিষেক ও গুণী জন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

১২

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি

১৩

জলবায়ু দুর্যোগে শিক্ষার সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি ২৭ লাখ শিশু

১৪

মার্কিন ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সুমাইয়া সমাজী

১৫

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে বাড়ছে ফি, আবেদনকারীদের গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ

১৬

সিলেট সদর দক্ষিণ সুরমা অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২৮ জুন

১৭

দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৮

৫ কোটি ২ লাখ অভিবাসী নিয়ে নতুন চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায়

১৯

ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য নতুন বিলাসবহুল এয়ার ফোর্স ওয়ান

২০