প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, তার প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের উপর ট্রাম্প-যুগের নিষেধাজ্ঞাগুলিকে বাদ দিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যার ফলে ইমিগ্রেশন নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসতে আগ্রহীদের জন্য।
পরিবার ভিত্তিক অভিবাসন, শরণার্থী ভর্তি, কর্মসংস্থান ভিত্তিক গ্রীন কার্ড, মুসলিম ট্রাভেল ব্যান, পাবলিক চার্জ সহ নানা পদক্ষেপগুলি প্রমান করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশনের শিথিলতা ।
সম্প্রতি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ঘোষণা করেছে যে ব্যবসায়িক এবং পর্যটন (বি-১ অথবা বি-২) ভিসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা এখন নতুন চাকরির জন্য আবেদন করতে এবং সাক্ষাত্কারে অংশ নিতে পারবেন। তবে, ইউএসসিআইএস, তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে প্রার্থিরা ইন্টারভিউতে বসতে পারলেও বি-১ অথবা বি ২ ভিসায় স্টেটাস এডজাস্টমেন্টের পূর্বে আমেরিকায় কাজ করতে পারবেন না।
• B-1/B-2 ভিসায় ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা এখন নতুন
চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন।• EB-3 ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় আবেদনে শিথিলতা
• হাইস্কিল্ড বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী গ্রীন কার্ড পেতে অপেক্ষার সময় কমেছে
এ প্রসঙ্গে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি এলেক্স কোটেব্স্কী ‘বাংলা সংবাদ’কে বলেন, ‘বি-১ অথবা বি ২ ভিসা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিবিন্ন উদ্দেশ্যে সবচেয়ে বেশি ইস্যুকৃত ভিসা। বি-১ ভিসা প্রধানত স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য ইস্যু করা হয়, বি ২ ভিসা পর্যটন উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়।
বি-১ অথবা বি ২ ভিসায় এসে চাকরির ইন্টারবিউ দিলে ও ডমেস্টিক লেবার মার্কেটে কাজ করতে পারবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নতুন কর্মসংস্থান শুরু করার আগে এপ্রোভাল অব পিটিশন ও চেঞ্জ অব স্টেটাস প্রয়োজন। জব শুরুর আগে এটা অবশ্যই প্রয়োজন। যদি চেঞ্জ অব স্টেটাস আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় তাহলে তাদের অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে এবং তাদের নতুন চাকরি শুরু করার আগে একটি বৈধ কর্মসংস্থান-অনুমোদিত স্ট্যাটাসে পুনরায় প্রবেশ করতে হবে।’
এদিকে ইউএস এম্বাসী ঢাকার কার্যক্রমেও বেশ প্রাণ ফিরেছে। গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সুপার ফ্রাইডে’তে ৫০০ জনেরও বেশি অনাবাসী ভিসা আবেদনকারী সাক্ষাৎকার প্রদানের সুযোগ পেয়েছেন। এসকল আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন, ব্যবসা এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য ভ্রমণের অপেক্ষায় ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জমে থাকা আবেদনের চাপ কমাতে ইউএস এম্বাসী ঢাকা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইবি-৩ দক্ষ এবং অদক্ষ বিদেশী কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ। সম্প্রতি এ ভিসায় এপ্রোভাল পরিসংখ্যান আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ইবি-৩ ভিসা, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির অংশ, আমেরিকান কর্মশক্তির চাহিদা মেটাতে বিদেশি কর্মীদের আনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
ইবি-৩ ভিসা প্রোগ্রামটি তিনটি বিভাগে বিভক্ত: দক্ষ কর্মীদের জন্য ইবি-৩ এ, পেশাদারদের জন্য ইবি-৩ বি এবং অদক্ষ কর্মীদের জন্য ইবি-৩ সি৷ এই বিভাগগুলি আমেরিকান চাকরির বাজারের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইবি-৩ এ ক্যাটাগরির অধীনে দক্ষ শ্রমিকদের সাধারণত তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ থাকে।
এর মধ্যে স্থপতি, প্রকৌশলী, নার্স এবং আইটি বিশেষজ্ঞের মতো পেশা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইবি-৩ বি ক্যাটাগরি স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের পেশাদারদের পূরণ করে, ইবি-৩ সি ক্যাটাগরি এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে যাদের একাডেমিক ডিগ্রি নেই কিন্তু কৃষি বা হসপিটালিটি শিল্পের শূন্য কাজগুলি করার আগ্রহ রয়েছে। ইবি-৩ ছাড়াও আরো বেশ কিছু ওয়ার্ক পারমিট ভিসা স্কিম রয়েছে যেগুলির সুযোগ নিতে পারেন বাংলাদেশিরা। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল H-1B ভিসা, L-1 ভিসা, O ভিসা, E ভিসা, J ভিসা, H-2A ভিসা, H-2B ভিসা, EB-1 ভিসা ভিসা EB-2 ভিসা।
মন্তব্য করুন