ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সিলেটে। রেলওয়ের ইঞ্জিন ও জ্বালানিবাহী ওয়াগন সংকটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন স্থানীয় তেল পরিশোধনাগার বন্ধ থাকার কারণেও এই সংকট বেড়েছে ।
এদিকে সেচ মৌসুমের কারণে এই জ্বালানি তেলের চাহিদাও বেড়েছে। বাড়তি চাহিদা ও ওয়াগন না আসার কারণে সংকট তীব্র আকার দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিজেল ছাড়াও পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিনেও সংকট দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় সিলেটের পেট্রোলপাম্পগুলোতে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটি। আজ শনিবার দুপুরে এক সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই সংকট অব্যাহত থাকলে সিলেট বিভাগের প্রায় আড়াইশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। গত দুমাস ধরে সংকট চললেও এ সপ্তাহে এসে তা চরম আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় ডিপোগুলোতেও ডিজেলের মজুদ ফুরিয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে রেলের তেলবাহী ওয়াগন সিলেটে আসতে পারছে না। প্রতি সপ্তাহে যেখানে ৫টি ডিজেলবাহী ওয়াগন (রেক) আসার কথা, সেখানে সপ্তাহে আসছে দুটি করে।
বোরো মৌসুমে সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রতি সপ্তাহে ডিজেলের চাহিদা রয়েছে ২৭ লাখ লিটার। অথচ এর বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ লিটার আসছে।
এদিকে, ডিজেল সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো চাষের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল না পেয়ে ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় যানবাহন চলাচল, সেচ পাম্প ও জেনারেটর চালানোর ব্যাঘাত ঘটছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে বৈঠকে বসেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। শনিবার দুপুরে নগরীর দক্ষিণ সুরমার কুশিয়ারা কনভেনশন হলে এ বৈঠক হয়।
এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটে ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি এখন পাওয়া যায় না। ফলে ব্যবসা পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দিন দিন এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
‘সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন একটি করে তেলবাহী লরি চট্টগ্রাম থেকে আসার কথা, সেখানে সপ্তাহে মাত্র একটি আসছে। তাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা উপায়ান্তর না পেয়ে ভৈরব থেকে জ্বালানি তেল আনছেন। এতে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে আমরা আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছি।’
মন্তব্য করুন