ইকবাল ফেরদৌস
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সিএসআই-সাপ্তাহিক সুরমা’র নির্বাচন-পূর্ব জনমত জরিপ প্রশংসিত হচ্ছে

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে ফলাফল অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।

 

 

নির্বাচনের আগে ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল ইনসাইট (সিএসআই) এবং লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা সাপ্তাহিক সুরমা’র যৌথ জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি জোট ১৭১ থেকে ২২২টি আসন পেতে পারে এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন ৪০ থেকে ৬০টির মধ্যে থাকতে পারে। বাস্তব ফলাফলে বিএনপি জোটের প্রাপ্ত ২১২ আসন সেই জনমতের মধ্যেই পড়েছে, যা জরিপের নির্ভুলতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৮৬টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলই শেষ পর্যন্ত আসন সংখ্যা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় ভোটে বিএনপি জোটের সম্ভাব্য সমর্থন ছিল ৪৬ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৩২ দশমিক ৫৬ শতাংশ-ফলাফলেও সেই ব্যবধানের প্রতিফলন দেখা গেছে।

 

 

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। জরিপে ৮১ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ৯২ শতাংশ ইতিবাচক মত দিয়েছিলেন। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকায় সেই আস্থাও অনেকাংশে বাস্তবতায় রূপ পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

 

এ বিষয়ে সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন বলেন, “আমরা যখন জরিপের কাজে দেশের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে মানুষের কথা জানতে চেয়েছি, তখন চারিদিকে জামায়াতের রমরমা জনপ্রিয়তা কাজ করছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন জামায়াত সরকার গঠন করবে। কিন্তু আমরা তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখেছি বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আমরা যখন জরিপের ফল প্রথম প্রকাশ করি, তখন অনেকেই তা বিশ্বাস করতে চাননি। এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের প্রকাশিত ফলাফলই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”

 

 

সব মিলিয়ে বলা হচ্ছে, সিএসআই ও সাপ্তাহিক সুরমার প্রকাশিত সমীক্ষা শুধু সম্ভাবনার চিত্রই দেয়নি, বরং বাস্তব ফলাফলে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। ফলে নির্বাচন-পূর্ব জনমত জরিপের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্লেষণী গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেন ৬৪ হাজার ৮৯০ জন ভোটার। দেশের সব বিভাগ, শহর ও গ্রামাঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে স্তরভিত্তিক স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে সরাসরি সাক্ষাৎকার, প্রশ্নপত্র এবং আসনভিত্তিক ভোট ভাগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিএসআই-সাপ্তাহিক সুরমা’র নির্বাচন-পূর্ব জনমত জরিপ প্রশংসিত হচ্ছে

তারেক রহমানের শপথ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ জেসি জ্যাকসন–এর ইন্তেকাল

সংসদ সদস্য হলে যেসব বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়

৫ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সিলেটের মুক্তাদির ও আরিফ

নতুন সরকারের যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

স্টার্লিং হাইটসে “গ্যারান্টিড রেন্ট” প্রোগ্রাম চালু করল আমেরিকান রিয়েলটর্স

মৌলভীবাজার-৪ আসনে হাজী মুজিবের মন্ত্রিত্ব প্রত্যাশায় চা-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ

আকাশে বিরল দৃশ্য: আগামীকাল বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ

আইস নিয়ে সমালোচনার জেরে টেক কোম্পানিগুলোর কাছে তথ্য চাইছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

১০

বড়লেখায় শিক্ষকের অবসরজনিত সংবর্ধনা

১১

করোনা তহবিল জালিয়াতি মামলায় নিউইয়র্কে ৮ বাংলাদেশি দোষী স্বীকার

১২

হার নয়, সম্ভাবনার জয়: বড়লেখা-জুড়ীতে জামায়াতের ভোটবৃদ্ধিতে নতুন স্বপ্ন নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা

১৩

কিউই বাধা পেরিয়ে শেষ আটের খুব কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা

১৪

ইমিগ্র্যান্ট নাগরিকদের নাগরিকত্ব খারিজে জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

১৫

বাংলাদেশের ভোট: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কীভাবে উঠে এলো

১৬

সিলেট জেলার ছয়টি আসনের পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়যুক্ত হয়েছেন।

১৭

বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব

১৮

জীবন রক্ষাকারী স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের কাহিনি

১৯

যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধ

২০