ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জয়ীদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে। সংসদ সদস্য হলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়? এ বিষয়ে অনেকেই অবগত নয়। বাংলাদেশে একজন সংসদ সদস্য বেতন-ভাতাসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। এ ছাড়াও তার হাতে থাকে নানা ধরনের ক্ষমতা।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য যেসব সুযোগ-সুবিধা পান, সেগুলো হচ্ছে-
১. সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা।
২. নির্বাচনী এলাকার ভাতা প্রতি মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা।
৩. সম্মানী ভাতা প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা।
৪. শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা।
৫. মাসিক পরিবহন ভাতা ৭০ হাজার টাকা।
৬. নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা।
৭. প্রতি মাসে লন্ড্রি ভাতা দেড় হাজার টাকা
৮. মাসিক ক্রোকারিজ, টয়লেট্রিজ কেনার জন্য ভাতা ৬ হাজার টাকা।
৯. দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক ভ্রমণ খরচ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
১০. স্বেচ্ছাধীন তহবিল বার্ষিক ৫ লাখ টাকা।
১১. বাসায় টেলিফোন ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা।
১২. সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ ভবন এলাকায় এমপি হোস্টেল আছে।
এ ছাড়া ২০১৫ -২০১৯ সাল পর্যন্ত একজন সংসদ সদস্য প্রতি বছর ৪ কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ পান। এই থেকে বরাদ্দের পরিমাণ আগে ছিল দুই কোটি টাকা।
সংসদ সদস্যদের আরও নানাবিধ প্রভাব
আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে ক্ষমতাশালী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা হচ্ছে আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা। কিন্তু এ ক্ষমতাটি ক্রমাগতভাবে প্রশাসনিক এবং নির্বাহী ক্ষমতায় রূপান্তরিত হয়েছে।’
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা, নানা ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনী সহ প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্প থেকে কারা সুবিধা পাবেন সেটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। এ ছাড়া এলাকার শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সহ নানা ধরণের প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকে।
স্থানীয় পর্যায়ে কোন চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সংসদ সদস্যদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকে বলে উল্লেখ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। অতীতে বিভিন্ন সময় অনেক সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের ওপর সংসদ সদস্যদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকে বলে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
মন্তব্য করুন