মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বহুল আলোচিত বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেওয়া এই রায়ে আদালত জানায়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।
৬–৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া রায়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট যে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছিলেন, সেই আইনে সরাসরি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব কংগ্রেসের হাতে।
রায় ঘোষণার পরপরই হোয়াইট হাউস বিকল্প পথের ঘোষণা দেয়। প্রশাসন জানায়, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের একটি ধারা ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা পরে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতারা বলছেন, আদালতের রায়ের মূল বার্তাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, ঘনঘন নীতিগত পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে আমদানি-রপ্তানি, শিল্প ও ভোক্তা দামে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায় শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কিছু দেশ বাণিজ্যে ভারসাম্যহীন সুবিধা পেয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান আগের শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস কী অবস্থান নেয় এবং প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই শুল্ক ইস্যুর ভবিষ্যৎ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এই আইনি টানাপোড়েন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে শুল্ক নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের রায় স্পষ্ট সীমারেখা দেখিয়ে দিলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন যে এখনই শেষ হচ্ছে না, তা পরিষ্কার।
মন্তব্য করুন