যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত শহর হ্যামট্রামিক ও ডিয়ারবর্নে সম্প্রতি পবিত্র কোরআন পোড়ানোর উস্কানিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থানীয় জনগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি|
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ডানপন্থী চরমপন্থী কর্মী জেক ল্যাং এই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী| ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এর আগেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন| গত ১০ মে হ্যামট্রামিক ইসলামিক সেন্টারের সামনে কোরআন পোড়ানোর হুমকি দিলে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানান| পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও স্থানীয় পুলিশ দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে| প্রতিবাদকারীরা পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে পবিত্র কোরআন বিতরণ করেন|
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জেক ল্যাং শেষ পর্যন্ত তার ট্রাক নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন|
এরপর ১১ ও ১২ মে ডিয়ারবর্ন শহরেও একই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চালানো হয়| উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগে জেক ল্যাংকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়|
ঘটনার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ান বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ| স্থানীয় খ্রিস্টান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রকাশ্যে এই ধরনের ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানান|
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে| তারা জানান, ধর্মীয় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল|
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ ও ঘৃণাপ্রসূত উস্কানির নতুন উদ্বেগ ˆতরি করলেও হ্যামট্রামিক ও ডিয়ারবর্নের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে|
এদিকে আরব-আমেরিকান সংবাদমাধ্যম আরব আমেরিকান নিউজ ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের সংহতি ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের ভূয়সী প্রশংসা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে|
মন্তব্য করুন