যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিককে মার্কিন ভিসার সাক্ষাৎকারের আবেদন করতে হবে নিজ দেশ থেকেই। অর্থাৎ, দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অন্য দেশে গিয়ে আবেদন করার সুযোগ আর থাকছে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘এখন থেকে অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের নিজ দেশ বা বাসস্থানের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটেই সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।’
এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন ভারতীয় নাগরিকেরা। এত দিন অনেক ভারতীয় দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা এড়াতে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড বা জার্মানির মতো দেশ থেকে ভিসার আবেদন করতেন। বিশেষ করে ব্যবসা (বি১) এবং পর্যটন (বি২) ভিসার আবেদনকারীরা এ সুযোগটি কাজে লাগাতেন। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা আর থাকছে না। তবে আফগানিস্তান, কিউবা বা ইরানের মতো দেশে যেখানে মার্কিন দূতাবাস নিয়মিত ভিসা পরিষেবা দেয় না, সেসব দেশের নাগরিকেরা নির্দিষ্ট কিছু দূতাবাস থেকে আবেদন করতে পারবেন।
আগে বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় ভারতে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে তিন বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেত। সেই সময় অনেকে বিদেশে গিয়ে সাক্ষাৎকার দিতেন। মহামারি পরবর্তী সময়েও ভারতীয় আবেদনকারীরা জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আবেদন করতেন। নতুন নিয়মের ফলে এখন সেই পথ বন্ধ হলো।
এছাড়া ২ সেপ্টেম্বর থেকে আরেকটি নতুন কড়াকড়ি চালু হয়েছে। এখন থেকে বেশির ভাগ আবেদনকারীকে অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। এত দিন পর্যন্ত ‘ড্রপবক্স’ সুবিধার আওতায় অনেকে শুধু কাগজপত্র জমা দিয়েই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে ড্রপবক্স সুবিধা অনেকটাই সীমিত করা হয়েছে।
ফলে এইচ, এল, এফ, এম, জে, ই এবং ও–সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসার আবেদনকারীদের দূতাবাসে সরাসরি হাজির হতে হবে। এমনকি ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৭৯ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদেরও সাক্ষাৎকারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, অন্যদিকে আফগানিস্তান, কিউবা বা ইরানের মতো দেশের নাগরিকেরা নির্দিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে কিছুটা হলেও সুবিধা পাবেন।
মন্তব্য করুন