যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক কর্মসূচির বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার পর সোমবার আবারও আদালতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। আদালতের রায়কে পাশ কাটিয়ে অন্যান্য আইনি ক্ষমতার আওতায় শুল্ক এবং লাইসেন্স ফি আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, আদালত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্টে’ আরোপ করা শুল্ককে বাতিল করে দিলেও অন্যান্য আইনি ক্ষমতাবলে তার শুল্ক আরোপের সক্ষমতা রয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আদালত অন্যান্য সব শুল্কের অনুমোদনও দিয়েছে, যার সংখ্যা অনেক। আইনি নিশ্চয়তা বজায় রেখে এই শুল্কগুলোকে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত শুল্কের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও কঠোরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।”
১৯৭৭ সালের‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্টের আওতায় ট্রাম্পের উচ্চহারে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে শুক্রবার রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর পরদিনই ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, তিনি সব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করবেন, যা আইনের আওতায় সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা।
ট্রাম্প সোমবার বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা থেকে তারা পিছু হটলে তিনি দেশগুলোর পণ্যের ওপর আরও উচ্চ শুল্ক আরোপ করবেন ভিন্ন বাণিজ্য আইনের আওতায়।
সোমবারের পোস্টে ট্রাম্প দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে লাইসেন্স ব্যবহারেরও ইঙ্গিত দেন। তিনি লেখেন, “অদ্ভুতভাবে রায়ে বলা হয়েছে, আমি লাইসেন্স ফি চার্জ করতে পারব না। কিন্তু সব লাইসেন্সেই ফি থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন পারবে না? আপনি লাইসেন্স দেনই ফি নেওয়ার জন্য! রায়ে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই, কিন্তু উত্তরটি আমার জানা আছে।” সোশাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, তিনি বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপর লাইসেন্স ফি আরোপ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
অস্থিতিশীল বাজার ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার সকালে ওয়াল স্ট্রিট ফিউচার এবং ডলারের মান পড়ে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানির চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম শুরুতে কমলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার খবরে তা পরবর্তীতে স্থিতিশীল হয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ট্রাম্পের পাল্টা বিভিন্ন পদক্ষেপ গত এক বছরে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। চীন ইতোমধ্যেই শুল্ক ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে এবং ভারত তাদের পূর্বপরিকল্পিত বাণিজ্য আলোচনা পিছিয়ে দিয়েছে।
আদালতের সঙ্গে সংঘাত
ট্রাম্প তার সোশাল মিডিয়া পোস্টে আদালতের সেই বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আবারও বিষোদগার করেছেন যারা তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এই বিচারকদের মধ্যে দুজনকেই তিনি তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট মূলত প্রেসিডেন্টের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে তার প্রশাসনের আবেদনের বিপরীতে শীর্ষ আদালত নেতিবাচক রায় দিতে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মন্তব্য করুন